কানাইঘাট সংবাদদাতা: সিলেটর সীমান্ত এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা এখন বেপরোয়া। তাদের কারনে বিশেষ করে কানাইঘাট সীমান্ত পরিণত হয়েছে মাদক চোরাচালানের নিরাপদ রুটে। ভারত থেকে সীমান্ত পথে কানাইঘাটের দূর্গম এলাকা দিয়ে মাদকের চালান গুলো সিলেট হয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। অথচ সীমান্ত এলাকার চিন্থিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের অভিযান অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, স্থানীয় পুলিশের সাথে আর্থিক সংযোগে মাদক চালান পৌছে দেয়া হচ্ছে গন্তব্যে। একই সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের গতিবিধি প্রকাশ্যে, তবুও পুলিশ নির্বিকার। এতে সীমান্ত এলাকার জনমতে ক্ষোভ বাড়ছে। সেই সাথে ইমেজ সংকটে পড়েছে পুলিশ।
সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট এলাকার মাদক চোরাচালানী নেটওর্য়াকের অন্যতম সদস্য ইয়াছিন আলী। উপজেলার ৩ নং দিঘীরপার ইউনিয়নের পূর্ব দপনগর এলাকার মৃত ইলিয়াস আলীর পূত্র সে। তার নেতৃত্বে মাদক ব্যবসায়ীয়ের শক্তিশালী সিন্ডিকেট এখন কানাইঘাটজুড়ে। সে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক মামলার আসামী হয়েও সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালানে এখন পুরোদমে বেপরোয়া। তার ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশে একাধিকবার তথ্য দিলেও প্রশাসনের ভূমিকা হতাশাজনক বলে জানিয়েছেন, কানাইঘাটের একাধিক স্থানীয় সচেতন লোকজন।
এমনকি শনিবার রাত দেড়টায় মাদকের চালান বহনকালে তাকে হাতে নাতে আটকের চেষ্টা করেন স্থানীয় দর্পননগর পূর্ব গ্রামবাসী। এসময় ইয়াসিন পালিয়ে যায় কিন্তু সে মাদকের বস্তা ফেলে রেখে যায়। গ্রামবাসীরা বলছেন, সে অস্ত্র তাক করে ভয় দেখালে লোকজন তাকে আটকাতে পারেনি। ফলে বাধ্য হয়ে মাদকের বস্তা রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায় ইয়াসিন।
পরে উপস্থিত স্থানীয় গ্রামবাসী কানাইঘাট স্থানীয় পুলিশকে খবর দিলে রাতেই এস আই শাহ আলম নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মাদকের বস্তা উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসেন। এদিকে, মাদক ব্যবসায়ী ইয়াসিন আলীকে গ্রেফতারের দাবী তুলেছেন কানাইঘাটের স্থানীয় লোকজন।
তারা বলছেন, ইয়াসিন আলী খুবই প্রতিশোধ পরায়ন। তার কুকর্মের প্রতিবাদ করে অনেকে ইতিমধ্যে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করেছে সে। এমনকি প্রায়শ: ভয়ভীতি দেখায় কেউ যেন তার মাদক ব্যবসার পথে প্রতিবাদ না করে। অন্যথায় মামলা মোকদ্দমা দিয়ে ফাঁসি দিবে সে। স্থানীয় সূত্র বলছে, মাদক সংশ্লিষ্টতার কারনে ঢাকায় দায়েরকৃত একটি মামলায় কারাভোগের পর সম্পতি গ্রামের বাড়ীতে ফিরে এসেছে। এখানে এসেই নতুন করে মাদক ব্যবসায় নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে বেপরোয়াভাবে জড়িয়েছে সীমান্ত পথে মাদক চোরাচালানে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সে তৈরী করেছে তার নেটওর্য়াক। ঢাকায় কারাভোগের কারনে সেখানে তার সখ্যতা গড়ে উঠেছে একাধিক মাদক মাফিয়াদের সাথে। তাই তার গতিবিধি ও চোরাচালান নেটওয়ার্ক অনেক শক্তিশালী হওয়ায় সে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
মাদক ব্যবসা সর্ম্পক্ত স্থানীয় কিছু সদস্য বলেন, ইয়াসিনের খুব উপরে যোগাযোগ। পুলিশের স্থানীয় কিছু সদস্য তার সাথে মাদক চোরাচালানে জড়িত। এ কারনে থানা পুলিশের কারনেই ধরা ছোঁয়ার বাইরে সে। মাদক ব্যবসায়ী ইয়াসিন তার গ্রামের বাড়ীতে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নিজের নিরাপত্তার দেয়াল গড়ে তোলেছেন। যাতে সন্দেহভাজন কোন কিছূর উপস্থিতি দেখলে সটকে পড়তে পারে সে।
স্থানীয় সূত্রমতে, মাদক ব্যবসায়ী ইয়াসিন আলীর বিরুদ্ধে বিজিবির উপর হামলা ঘটনায় একটি মামলা রয়েছে। মামলাটি এখন বিচারাধীন। আইনশৃংখলা বাহিনীর উপর হামলা সহ বিভিন্নভাবে চ্যালেঞ্জ করে নিজকে অপরাধের ডন হিসেবে কুখ্যাতি লাভ করেছে সে। সেকারনে বেপরোয়া সে। সাধারন মানুষও তাকে ভয় করে তার কুকর্মের প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। তাই নির্বিঘ্নে চালিয়ে সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসা। সেই ব্যবসায় জড়িত করছে কোমলমতি কিশোরদের। তাদের মাধ্যেম স্থানীয় স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ যুবকরা মাদকের থাবায় এখন দিশেহারা। মাদকের অর্থ যোগাড় করতে যেয়ে মফস্বলের পারিবারিক সুখ শান্তি তছনছ হয়ে পড়ছে।
এদিকে, কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, তারা সার্বক্ষিনভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় মাদক চোরাচালান ঘটনা ঘটে। কিন্তু পুলিশ তার অবস্থান থেকে মাদক ব্যবসা রুখতে অভিযান চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত মাদক ও জড়িত ৩ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা নেয়া গ্রহন করা হয়েছে আজ (শনিবার)। মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে ইয়াসিন আলীকে। এছাড়া জলিল মিয়া ও অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামী করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অপর একটি সূত্র বলছে, মাদক নেটওয়ার্কের স্থানীয় ডন ইয়াসিনকে রক্ষায় বিভিন্নভাবে তদবির শুরু হয়েছে থানা পুলিশে। অর্থের বিনিয়মে গ্রেফতার এড়িয়ে যেতে পুলিশ ম্যানেজের চেষ্টা লিপ্ত সে।
Leave a Reply