শাহপরানে টর্চ লাইটের গ্রীন সিগন্যালে বন্দি পুলিশ | তদন্ত রিপোর্ট

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন

শাহপরানে টর্চ লাইটের গ্রীন সিগন্যালে বন্দি পুলিশ

শাহপরানে টর্চ লাইটের গ্রীন সিগন্যালে বন্দি পুলিশ

Manual2 Ad Code

মোঃ রায়হান হোসেন: শাহপরান থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি যেনও মধুর হাঁড়িতে পরিণত হয়েছে। ডিউটির নামে পুলিশ সদস্যরা প্রকাশ্য চালাচ্ছেন চাঁদাবাজি এমন অভিযোগ নিত্যদিনের। চোরাচালানের রাজ্যখ্যাত জৈন্তাপুর- গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার প্রায় ৮০টি সীমান্ত পথে আসা চোরাচালানের মালামাল পরিবহনের প্রধান সড়ক হচ্ছে তামাবিল মহাসড়ক। সেই সুবাধে এ সড়ক ঘিরে শাহপরান থানা পুলিশের পুলিশ সদস্যরা ডিউটির নামে চালাচ্ছেন বেপরোয়া নৈরাজ্য”।

Manual4 Ad Code

ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ই মার্চ) রাত ১১টা ২৪ ঘটিকায় তামাবিল মহাসড়কের দাসপাড়া বাজারস্থ নির্মান সাটারিং হাউজ নামক দোকানের সামনে শাহপরান থানা পুলিশের এ.এস.আই মামুনসহ সঙ্গীয় ফোর্সরা গোয়াইনঘাটের সীমান্ত পথে অবৈধভাবে আসা ভারতীয় আলু বোঝাই বড় একটি ট্রাক আটক করলেও বড় অংকের রফাদফায় মালসহ গাড়িটা ছেড়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে!

এই ঘটনায় ছেড়ে দেওয়া বা মামলা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে অদ্য শুক্রবার ১৩ই মার্চ বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে শাহপরান থানা পুলিশের ওসির ব্যবহৃত সরকারি সেলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। পরে শাহপরান থানার তদন্ত ওসির ব্যবহৃত সরকারি সেলফোনেও যোগাযোগ করলে তিনিও ফোনকল রিসিভ করেন নি।

তবে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার, এডিসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের ব্যবহৃত সরকারি সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদকে লাইনে রেখেই শাহপরান থানা পুলিশের ওসির নিকট বিষয়টি জেনে ছেড়ে দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান- কাগজপত্র সঠিক থাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তারপরও ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্পূর্ণ বিষয়ে জেনে নিতে প্রতিবেদকে আহ্বান জানান।

ধারাবাহিকতা বিকাল ৩টা ১৬ মিনিটে ওসির সরকারি নাম্বারে পূনরায় যোগাযোগ করলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেন নি তবে প্রতিবেদকের ব্যবহৃত নাম্বারের হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানান তিনি মিটিং আছেন।

অবশ্য পুলিশের দাবি মালের কাগজ সঠিক থাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কিন্তু সাংবাদিক তার পরিচয় গোপন রেখে আলু বোঝাই ট্রাক চালকের সঙ্গে আলাপকালে প্রথমে তিনি জানান গোয়াইনঘাট থেকে নিয়ে আসছেন আবার বলেন না কানাইঘাট থেকে নিয়ে আসছেন রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। তবে মালের চালান হুমায়ুন চত্বর সিএনজি পাম্পে রাখা আছে মর্মেও বলেন।

ভারতীয় কি না? জানতে চাইলে চালক জানান- রাজশাহী থেকে ৫০/৬০জন কৃষক এসে ট্রাই করার জন্য ওই দুদিকের একদিকে কোথাও আলু চাষ করেছেন সেই আলু নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে মালের মালিক কে তা বললে তিনি কারো নাম জানেন না মর্মে জানান। প্রশ্ন হচ্ছে রাজশাহীর চালক আবার রাজশাহীর হতে সিলেটে আসা ৫০/৬০ জন কৃষকের মধ্যে কি একজনের নামও চালকের জানা নেই? আবার চাষের আলু যখন তখন কিসের চালান হুমায়ুন চত্বরে রাখা? চালকের বক্তব্য ইঙ্গিত করছে রফাদফার বিষয়টি!

Manual4 Ad Code

এদিকে একই রাতে দাসপাড়া বাজারস্থ নির্মান সাটারিং হাউজ নামক দোকানের সামনে সাদা পোশাক পরিহিত একজন লোক দাড়িয়ে থেকে মাটি কিংবা মালামাল বোঝাই কোন গাড়ি আসলে টর্চলাইট দিয়ে সিগ্যনাল দেন সেখানে ডিউটিরত এ.এস.আই মামুন সহ তার সঙ্গীয় ফোর্সদের। গ্রীন সিগন্যাল দেখেই রাস্তার পাশ থেকে রাস্তায় উঠে এ.এস.আই মামুন এসব গাড়ির দিকে হাত বাড়িয়ে টাকা নিতেও দেখা গেছে।

Manual2 Ad Code

উল্লেখ্য, সাদা পোশাকদারী লোকের টর্চলাইটের গ্রীন সিগন্যালে বেশকয়টি মাটির গাড়ি থেকে এ ধারাবাহিকতায় এ.এস.আই মামুনকে টাকা নিতে দেখা যায়। তাহলে কি শাহপরান থানা পুলিশের রাতে ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যরা টর্চ লাইটের গ্রীন সিগন্যালে বন্দি? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে এ.এস.আই মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ পাননি প্রতিবেদক। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রতিবেদকের ব্যবহৃত নাম্বারের হোয়াটসঅ্যাপে এ.এস.আই মামুনের ব্যবহৃত নাম্বার থেকে ফোন আসলে রিসিভ করার আগেই ফোন কলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo

Follow for More!

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code
error: Content is protected !!