নিজস্ব সংবাদদাতা: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র জাফলং সংলগ্ন আশ্রয়ন এলাকায় মাদকের মরণ নেশা ছড়িয়ে দিচ্ছে চিহ্নিত মাদক কারবারি সাহাব উদ্দিন। সীমান্ত এলাকা ও সহজ কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এতে ধ্বংসের মুখে পড়ছে এলাকার তরুণ প্রজন্ম।
জানা গেছে, জাফলং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও পণ্য বহনের মাধ্যমে যেকোনো বয়সের মানুষ সহজেই টাকা রোজগার করতে পারে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নলজুড়ী গ্রামের রজব আলীর ছেলে সাহাব উদ্দিন আশ্রয়ন এলাকার শিশু-কিশোরদের মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করছেন। সামান্য পরিশ্রমে ‘কাঁচা টাকা’ হাতে আসায় পড়াশোনা ছেড়ে অন্ধকার পথে পা বাড়াচ্ছে এই কোমলমতি কিশোররা।
থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) তথ্যানুযায়ী, সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭টি মাদক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে লাখ লাখ টাকার ইয়াবাসহ তাকে আটক করে আদালতে পাঠানো হলেও, জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি পুনরায় একই ব্যবসায় লিপ্ত হন। এলাকায় বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ানো এই কারবারি প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশ্যে দম্ভোক্তি করে বলেন, “আদালত আমার বিচার করবে, মামলা তো চলছেই।”
স্থানীয় মুরব্বিদের অভিযোগ, সাহাব উদ্দিন শুধু মাদক ব্যবসায়ীই নন, তিনি অত্যন্ত দুর্ধর্ষ। এলাকাবাসী একাধিকবার তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিলেও জামিনে ফিরে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। নিজেকে রক্ষা করতে এবং প্রশাসনকে ভয় দেখাতে তিনি সবসময় দেশীয় অস্ত্র (চাকু বা দা) সাথে রাখেন। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ১২ মার্চ গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ তাকে ৬০০ পিস ইয়াবাসহ আটকের সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল।
আশ্রয়ন এলাকার বাসিন্দারা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সাহাব উদ্দিনের কারণে পুরো এলাকার সামাজিক পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র আটক নয়, বরং এই মাদক সম্রাটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
মাদক ব্যবসায় শিশু-কিশোরদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় জাফলংয়ের এই জনপদে অপরাধের হার ক্রমেই বাড়ছে। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply