ইউএনও’র স্বাক্ষর জালিয়াতি, পদ হারালেন জামায়াত নেতা। | তদন্ত রিপোর্ট

বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ন

ইউএনও’র স্বাক্ষর জালিয়াতি, পদ হারালেন জামায়াত নেতা।

ইউএনও’র স্বাক্ষর জালিয়াতি, পদ হারালেন জামায়াত নেতা।

Manual2 Ad Code

জাকারিয়া রানা জেলা প্রতিনিধি 

Manual4 Ad Code

ইউএনও’র স্বাক্ষর জালিয়াতি, পদ হারালেন জামায়াত নেতা

হাছেন আলী

Manual8 Ad Code

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির হাছেন আলীর বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ ইউএনও’র স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

Manual2 Ad Code

এ ঘটনায় হাছেন আলীকে গত বৃহস্পতিবার কারণ দর্শনোর নোটিশ দিয়েছেন হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিঞা। অপরদিকে হাছেন আলীকে কারণ দর্শনোর নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি জানাজানির পর বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা জামায়াতের আমির পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন জেলা কমিটি।

Manual2 Ad Code

জামায়াত নেতা হাছেন আলী চলতি বছর ১৩ মে থেকে হাতীবান্ধা মডেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

জানা গেছে, হাতীবান্ধা মডেল কলেজ বেশ কিছুদিন আগে এমপিওভুক্ত হওয়ার পরে সেখানে অধ্যক্ষের দাবিদার হাসেন আলীসহ চারজন। এ নিয়ে অধ্যক্ষ দাবিদার চারজনই বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। ফলে সরকার ঘোষিত এমপিও’র সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কলেজটির শিক্ষক-কর্মচারীরা। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে চলতি বছর ১৩ মে উপজেলা জামায়াতের আমির হাছেন আলীকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও হাতীবান্ধার ইউএনও শামীম মিঞা। কিন্তু বেতন ভাতা পেতে নতুন কয়েকজনের নিয়োগ দেখিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে ১৩টি ফাইল পাঠিয়ে সেগুলোর অনুমোদন বের করেন হাছেন আলী। এতে কলেজটির সভাপতি হিসেবে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর স্ক্যান করে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ওই ১৩টি ফাইলে ইউএনও স্বাক্ষর করেননি বলে জানিয়েছেন হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিঞা।

এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাছেন আলীকে পাঠানো হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানো নোটিশে বলা হয়েছে , “নিম্ন স্বাক্ষরকারীকে না জানিয়ে স্বাক্ষর জাল/ স্ক্যান করে ১৩টি ফাইল ইনডেক্সের জন্য প্রেরণ করেছেন মর্মে জানতে পেরেছি। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য বলা হলো।”

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিঞা সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু আমি স্বাক্ষর করিনি, সেহেতু আমার স্বাক্ষর স্ক্যান করে ইনডেক্সের জন্য পাঠানো হয়েছে। সে কারণেই এটা তো জাল বলাই যায়। ওই কলেজের সভাপতি হিসেবে আমি দায়িত্ব পালন করছি। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর ওই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাছেন আলীকে বৃহস্পতিবার কারণ দর্শনোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাব পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাছেন আলীর মুঠোফোনে কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে জামায়াতের উপজেলা আমির হাছেন আলীকে কারণ দর্শনোর নোটিশ দেওয়ার পর পরই হাতীবান্ধা উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে দলীয় ফোরামের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে হাছেন আলীকে উপজেলা জামায়াতের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবু তাহের উপজেলা জামায়াতের আমির হাছেন আলীকে দলীয় পদ পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করলেও কী কারণে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নে কোনও কথা বলতে রাজি হননি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo

Follow for More!

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code
error: Content is protected !!