সাহের আলী, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
“বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ মেনে চলি, বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের খঞ্জনমারা সোনাভরি হাই স্কুল মাঠে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে এক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় বাল্যবিবাহের কুফল, সামাজিক প্রভাব এবং প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রৌমারী সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মো. মমিন, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোহিম আল মোস্তাকুর, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোক্তার হোসেন, সাবেক সেনা সদস্য নুরুল আমিন, বন্দবেড় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কাজিম উদ্দিন, ফ্রেন্ডশিপ-এর সিনিয়র ম্যানেজার নাহিম কামরুন রেনু, প্রজেক্ট অফিসার আমির হামজা, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা সাইদার মুন্সি, স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষকমণ্ডলী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও গণ্যমান্য অভিভাবকরা।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা কিশোর-কিশোরীর স্বাভাবিক বিকাশকে ব্যাহত করে এবং জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। দারিদ্র্য, কুসংস্কার, নারী শিক্ষার অবহেলা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাই এই সমস্যার মূল কারণ। আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে কোনো মেয়ের বিয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও, এখনো অনেক পরিবার সচেতনতার অভাবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়।
বক্তারা আরও বলেন, অল্প বয়সে বিয়ের কারণে মেয়েরা শারীরিক ও মানসিকভাবে মা হওয়ার জন্য প্রস্তুত না থাকায় গর্ভকালীন জটিলতা, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার বেড়ে যায়। পাশাপাশি তারা শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ে এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়।
এ সময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোহিম আল মোস্তাকুর বলেন, “বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন নয়, প্রয়োজন সচেতনতা, শিক্ষা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। পরিবার, সমাজ ও সরকারের সম্মিলিত প্রয়াস ছাড়া এই অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।”
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন ফ্রেন্ডশিপ, রৌমারী। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা জনগণের মাঝে বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান—“বাল্যবিবাহ বন্ধ হোক, ভবিষ্যৎ হোক আলোকিত।”
আলোচনা সভা শেষে সোনাভরি হাই স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
Leave a Reply