ছাতক সংবাদদাতা: সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী দ্বিজেন কুমার দাসের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এ পৌরসভার সব ধরনের টেন্ডার কাজে দ্বিজেনের রয়েছে একক আধিপত্য। দীর্ঘদিন ধরেই টেন্ডার ছাড়াও দ্বিজেন পৌরসভার অনেক উন্নয়ন কাজ করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যেকোন অসম্ভব কাজকে সম্ভব করাই ছিল দ্বিজেনের এক চুটকির কাজ। যে কারণে ছাতক পৌরসভার দুর্নীতির মুকুটহীন সম্রাট দ্বিজেন।
স্বৈরাচারের দোসর অপসারিত পৌর মেয়রের সঙ্গে দ্বিজেনের ছিল বেশ দহরমমহরম। ফলে সেইসময় মেয়রের আর্শীবাদে পৌর সভার নির্বাহী প্রকৌশলী না থাকায় পৌরসভার সকল কাজেই একক আধিপত্য বিস্তার করে দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। তবে দ্বিজেনের সকল দুর্নীতির মারফতে আয়কৃত অবৈধ টাকার একটা ভাগ পেতেন পৌর মেয়র।
তার ছল-চাতুরী ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে পৌরসভার অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এ ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার (১৩ই মার্চ) পৌর সভার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জ্যোতি এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মান টেডার্সের পক্ষ থেকে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ছাতক পৌর প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
অভিযোগের তথ্যমতে, উপরোক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দু’টি নিয়মিত সরকারি কর পরিশোধে করে তাদের লাইসেন্স নবায়ন করে যাচ্ছেন। কিন্তু দ্বিজেনের গোপন ছল-চাতুরীর ফলে আজোবধি কোন টেন্ডারে তারা অংশ নিতে পারেন নি। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলোকে আড়ালে রেখেই দ্বিজেন টেন্ডার ছাড়াই কাজ করে হাতিয়ে নিচ্ছেন পৌরসভার লক্ষ লক্ষ টাকা।
সম্প্রতি পৌরসভা কর্তৃক ছাতক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজে টেন্ডার ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী দ্বিজেন।
অভিযোগপত্রে আরও জানা গেছে- কাজের টেন্ডার যদি হয়ে থাকে তাও আবার করা হয়েছে গোপনে। তবে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে শতভাগ নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে। ফলে ইটের পিলার ও গাথুনির মাধ্যমে দেয়াল নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হলেও যেকোন মূহুর্তে দেয়াল ভেঙ্গে বড় দুর্ঘটনা ঘটবে বলে অভিযোগ প্রকাশ। অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ দেয়াল নির্মাণের কারণে শহীদ মিনারে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বিপুল পরিমাণ লোক সমাগম ঘটলে এ ঝুঁকিপূর্ণ দেয়ালটি ভেঙ্গে যেকোন সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে। আর যাইহোক এ সংস্কার কাজকে আত্মসাৎ প্রক্রিয়া ছাড়া আরকিছুই বলা যায় না।
এদিকে টেন্ডার ছাড়া পৌর সভার বিভিন্ন স্থানে মাটি ভরাটের কাজও করে যাচ্ছেন পৌর সভার এ উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ একটি চক্র। এসব কাজে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। অভিযোগে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরের তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানানো হয়।
অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী দ্বিজেন কুমার দাসের ব্যবহৃত সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান- এসব মিথ্যা। একটি মহল ইউএনও স্যারসহ আমাকে প্রশ্নবৃদ্ধ করার জন্য এসব করাচ্ছে। আমি কাজের ব্যস্ততায় রয়েছি বিধায় যারা এপর্যন্ত এসব বিষয়ে সংবাদ করছেন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছি না কিন্তু ইউএনও স্যারের সাথে আমার আলাপআলোচনা করা শেষ স্যারসহ আমরা যেকোনো মূহুর্তে অ্যাকশনে যাবো।
Leave a Reply