তদন্ত রিপোর্ট প্রতিবেদক: চোরাই পথে আসা ভারতের চিনিসহ নানান রকম চোরাচালানের মালামাল পাচারের নিরাপদ রুট ছিল সিলেট তামাবিল মহাসড়ক। তখন এ সড়ক দিয়ে জেলার জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসা চোরাচালানের কোটি কোটি টাকার মালামাল ভর্তি ট্রাক প্রতিদিনই সিলেটের বাজারসহ সমগ্রহ দেশে পাচার করত চোরাকারবারিরা। মূলত চোরাচালানের সঙ্গে তাৎক্ষণিক স্থানীয় সরকারদলীয় নেতা-কর্মী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও প্রশাসনের লোকজনের যোগসাজশ থাকায় কোনভাবেই বন্ধ করা যায়নি চোরাচালান।
সম্প্রতি অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোঃ রেজাউল করিম, পিপিএম-সেবা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েই বিশেষ করে চোরাকারবারিদের জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়ান তিনি। তখন ধীরে ধীরে এ সড়ক দিয়ে আসা চোরাচালানের বিভিন্ন রকমের মালামাল আটকের খবর আসা শুরু হয় মিডিয়াপাড়ায়।
এসএমপির পুলিশ কমিশনার এ সড়কের চোরাচালান বাণিজ্য শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েই গত বছরের নভেম্বর মাসে শাহপরাণ (রহঃ) মাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনর্চাজ হিসেবে দায়িত্ব তুলে দেন এসআই মোঃ সানাউল ইসলামের কাঁধে। এসআই সানাউল যোগদানের পর এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের চিন্তা-ভাবনা ছিল তিনিও হয়তো সাবেকদের দেখানো পথে হাঁটবেন।
কিন্তু না এসএমপির পুলিশ কমিশনারের দিক-নির্দেশনায় ও দক্ষিণ জোনের ডিসি এবং শাহপরাণ (রহঃ) থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সার্বিক সহযোগীতায় ম্যাজিকম্যান এর মতো এসআই সানাউল অসম্ভবকে সম্ভব করলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর হইতে চলতি বছরের মার্চ মাসের এখন পর্যন্ত মাত্র সাড়ে চার মাসে এসআই সানাউল কর্তৃক অভিযানে প্রাণঘাতী মাদকের বিশাল চালানসহ চোরাচালানের নানান রকম মালামালসহ ৫৫ জনকে গ্রেফতার করতঃ প্রায় ৪৬টি নিয়মিত মামলা রুজু করেছেন বলে পুলিশের একাধিক সুত্র নিশ্চিত করে। অল্প সময়ে প্রায় ১৭ কোটি টাকার ভারতীয় চোরাচালানের মালামাল জব্দ করায় এসআই সানাউলের ভুয়সী প্রশংসায় পঞ্চমুখ সর্বস্তরের মানুষ। এসআই সানাউলের চলমান ভুমিকায় সন্তুষ্ট বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। এসময়ে সৎ, দক্ষ, সাহসী এমন অফিসার যেনও পুলিশ বাহিনীর গর্ব। জনগনের আস্থা ধরে রাখতে এমন পুলিশ অফিসারের প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
দেশের ক্লান্তিলগ্নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ পারদর্শীতায় যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, রাহাজানী, মাদকের আগ্রাসণ প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে শুরু করে অসংখ্য পরিমান মাদক উদ্ধার ও গ্রেফতার তামিলে সাফল্য দেখিয়ে এক টানা চার বার এসএমপি’র মাসিক শ্রেষ্ঠ অফিসার নির্বাচিত হন তিনি। এমনকি এসএমপির অপরাধ পর্যালোচনা সভায় দুই বার কৃতিত্ব অর্জন করে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে সনদপত্র ও নগদ অর্থ লাভ করেছেন তিনি।
শাহপরাণ (রহঃ) থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন গণমাধ্যমে জানান- পুলিশ কমিশনার স্যারের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী ঘুষ ও দুর্নীতির উর্ধ্বে থেকে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমার থানার কোন পুলিশ সদস্যকে যদি অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলে তাহলে বাধ্যতামূলক তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আমি দ্বিধাবোধ করব না।
তিনি আরও বলেন- গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস হতে এ পর্যন্ত পৃথক ৬২টি মামলায় সর্বমোট ১৩২ জন আসামি আটক করতঃ কোর্ট মারফতে জেল হাজতে প্রেরণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। আমাদের এই ধারাবাহিকতা চলমান রয়েছে।
Leave a Reply