নাজুক অবস্থায় মেঘনা: দুর্নীতির "মাস্টার মাইন্ড" মুজিবুর | তদন্ত রিপোর্ট

রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
নাজুক অবস্থায় মেঘনা: দুর্নীতির “মাস্টার মাইন্ড” মুজিবুর

নাজুক অবস্থায় মেঘনা: দুর্নীতির “মাস্টার মাইন্ড” মুজিবুর

Oplus_16908288

Manual6 Ad Code

তদন্ত রিপোর্ট প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তিনটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড—সারা দেশে জ্বালানি তেল বিপণনের কাজে নিয়োজিত। তিনটি প্রতিষ্ঠানই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অনিয়ম-দুর্নীতির নানা অভিযোগ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মেঘনা পেট্রোলিয়াম এখন নাজুক অবস্থায় পড়েছে। বিশেষ করে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন্স) অঃ দাঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বাণিজ্য, ডিপো থেকে মাসিক চাঁদা আদায়, মামলা পরিচালনায় অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল তৈরি করে টাকা আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি কোম্পানির গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ভাড়ায় ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের অর্থ আয় করার অভিযোগও রয়েছে।

Manual5 Ad Code

অভিযোগ রয়েছে, বিগত সময়ে মুজিবুর রহমান চৌধুরী আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়ামে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গত এক যুগে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর অপারেশন ইনচার্জ (ওসি) এবং পরবর্তী ৩ বছর এজিএম (এমআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন—যা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

Manual8 Ad Code

অভিযোগে বলা হয়, এ সময় তিনি সরকারি তেল আত্মসাৎ ও অবৈধ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মির্জাপুরে তার শত বিঘা জমির ওপর মাছের পুকুর রয়েছে—যেখান থেকে মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় হয় বলে জানা গেছে।

Manual4 Ad Code

প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিপো থেকে নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায় হতো এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেটি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে গোপনে করা হতো। তবে তারা নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানিয়েছেন।

কোম্পানির ভেতরে অভিযোগ উঠলেও অতীতে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ব্যবহার করে বেশ কয়েকবার তদন্ত প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে দুদকের এক উপ-পরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, “যদি কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায় বা পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক প্রমাণ মেলে, তাহলে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন,“একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে যদি তার সম্পদের পরিমাণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে সেটি দুর্নীতির ইঙ্গিত বহন করে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।”

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code
error: Content is protected !!