সাতক্ষীরায় অচল ৮ কোটি টাকার মৎস্য ল্যাব | তদন্ত রিপোর্ট

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

সাতক্ষীরায় অচল ৮ কোটি টাকার মৎস্য ল্যাব

সাতক্ষীরায় অচল ৮ কোটি টাকার মৎস্য ল্যাব

Oplus_16908288

Manual8 Ad Code

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় জনবলের অভাবে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে মাছের ভাইরাস পরীক্ষার আট কোটি টাকার ল্যাব। এদিকে ভাইরাস পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় প্রতিবছর মরে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার চিংড়ি। মৎস্যজীবীদের দাবি, অবিলম্বে জনবল নিয়োগ দিয়ে সচল করা হোক বহুল কাঙ্ক্ষিত এই ল্যাব।

Manual5 Ad Code

বছর দুয়েক আগে সাতক্ষীরার এল্লারচরে চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারে জীবাণু পরীক্ষার জন্য প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ল্যাব বসানো হয়। তবে জনবলের অভাবে এগুলো অব্যবহৃত পড়ে আছে।

জেলার ৫৫ হাজার ঘেরে সাদা সোনাখ্যাত বাগদা চাষ করা হয়। তবে ভাইরাস পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় মড়কে উজাড় হয়ে যায় ঘেরগুলো।

সাতক্ষীরা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৩০ হাজার টনের বেশি বাগদা উৎপাদিত হয়, যার দাম ২ হাজার কোটি টাকার বেশি। আর সাতক্ষীরা শহরের করিম সুপার মার্কেটে প্রতিদিন ২ কোটি টাকার বেশি বাগদা পোনা বিক্রি হয়। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে বাগদা পোনা এনে করিম সুপার মার্কেটে বিক্রি হয়। এই মার্কেট থেকে পোনা চলে যায় জেলা সদর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

পোনার মান নিয়ে অবশ্য ঘেরচাষিদের অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা বলেন, ঘেরে যে বাগদা পোনা ছাড়া হয়, তার ভাইরাস স্ক্যান করতে সাতক্ষীরায় কোনো ব্যবস্থা নেই। যে কারণে বাগদা পোনা ছাড়ার কিছুদিনের মধ্যে মরে উজাড় হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। শহরের অদূরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে পোনার ভাইরাস পরীক্ষার পিসিআর ল্যাব স্থাপিত হলেও সুফল না পাওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ।

Manual8 Ad Code

পোনা ব্যবসায়ী সাতক্ষীরার কামালনগরের রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজার থেকে যে পোনা আসে, আমরা ব্যবসায়ীরা পলিথিন দেখে বিক্রি করে দিই। ঘেরমালিকেরা এই অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে মাছের জীবাণু পরীক্ষার জন্য দুই বছর আগে সাতক্ষীরার এল্লারচরে বসানো ল্যাবের যন্ত্রপাতি। ল্যাব সচল না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় চিংড়িচাষিরা। মাছ ছেড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ, তা চেনার উপায় নেই। সাতক্ষীরায় যদি ভাইরাস পরীক্ষার প্রযুক্তি পাওয়া যেত, তবে চাষিরা খুবই উপকৃত হতো। আমরা পলিথিন দেখে বুঝি, রেনু ভালো। কিন্তু ঘেরে ছাড়ার পর মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। চাষিরা কোটি কোটি টাকার ক্ষতির
অচল ৮ কোটি টাকার মৎস্য ল্যাব

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় জনবলের অভাবে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে মাছের ভাইরাস পরীক্ষার আট কোটি টাকার ল্যাব। এদিকে ভাইরাস পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় প্রতিবছর মরে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার চিংড়ি। মৎস্যজীবীদের দাবি, অবিলম্বে জনবল নিয়োগ দিয়ে সচল করা হোক বহুল কাঙ্ক্ষিত এই ল্যাব।

বছর দুয়েক আগে সাতক্ষীরার এল্লারচরে চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারে জীবাণু পরীক্ষার জন্য প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ল্যাব বসানো হয়। তবে জনবলের অভাবে এগুলো অব্যবহৃত পড়ে আছে।

জেলার ৫৫ হাজার ঘেরে সাদা সোনাখ্যাত বাগদা চাষ করা হয়। তবে ভাইরাস পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় মড়কে উজাড় হয়ে যায় ঘেরগুলো।

সাতক্ষীরা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৩০ হাজার টনের বেশি বাগদা উৎপাদিত হয়, যার দাম ২ হাজার কোটি টাকার বেশি। আর সাতক্ষীরা শহরের করিম সুপার মার্কেটে প্রতিদিন ২ কোটি টাকার বেশি বাগদা পোনা বিক্রি হয়। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে বাগদা পোনা এনে করিম সুপার মার্কেটে বিক্রি হয়। এই মার্কেট থেকে পোনা চলে যায় জেলা সদর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

Manual6 Ad Code

পোনার মান নিয়ে অবশ্য ঘেরচাষিদের অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা বলেন, ঘেরে যে বাগদা পোনা ছাড়া হয়, তার ভাইরাস স্ক্যান করতে সাতক্ষীরায় কোনো ব্যবস্থা নেই। যে কারণে বাগদা পোনা ছাড়ার কিছুদিনের মধ্যে মরে উজাড় হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। শহরের অদূরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে পোনার ভাইরাস পরীক্ষার পিসিআর ল্যাব স্থাপিত হলেও সুফল না পাওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ।

পোনা ব্যবসায়ী সাতক্ষীরার কামালনগরের রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজার থেকে যে পোনা আসে, আমরা ব্যবসায়ীরা পলিথিন দেখে বিক্রি করে দিই। ঘেরমালিকেরা এই অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে মাছের জীবাণু পরীক্ষার জন্য দুই বছর আগে সাতক্ষীরার এল্লারচরে বসানো ল্যাবের যন্ত্রপাতি। ল্যাব সচল না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় চিংড়িচাষিরা। মাছ ছেড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ, তা চেনার উপায় নেই। সাতক্ষীরায় যদি ভাইরাস পরীক্ষার প্রযুক্তি পাওয়া যেত, তবে চাষিরা খুবই উপকৃত হতো। আমরা পলিথিন দেখে বুঝি, রেনু ভালো। কিন্তু ঘেরে ছাড়ার পর মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। চাষিরা কোটি কোটি টাকার ক্ষতির
শিকার হচ্ছেন।’

চিংড়িচাষি আজাদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সাতক্ষীরায় যে দীর্ঘদিন চিংড়ি চাষ হচ্ছে, তা বৈজ্ঞানিক উপায়ে হচ্ছে না। কারণ, আমরা যে পোনা ঘেরে দিই, তা সুস্থ না অসুস্থ জানতে পারি না। ফলে পোনা ঘেরে ছাড়ার পর চাষিরা কোটি কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। আমাদের জেলায় পিসিআর ল্যাব আছে, কিন্তু জনবল নেই। দ্রুত যেন জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়।’

একই দাবি পৌরসভার পলাশপোল এলাকার হাফিজুর রহমান মাসুমের। তিনি বলেন, পোনাগুলো এসপিএফ মুক্ত কি না, তা জানা জরুরি। জনগণের অর্থে বানানো ল্যাব নষ্ট হচ্ছে, এতে মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

Manual1 Ad Code

ল্যাব দুটোতে জনবল নিয়োগ দিলে চিংড়ি চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান। তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য চাষে সমৃদ্ধ। কিন্তু সমস্যা হলো, যখন চাষিরা পিএলএ নিয়ে যান, তাঁরা পরীক্ষা করানোর সুযোগ পান না। এ জন্য খুলনায় পাঠাতে হয়। তাঁদের ঘেরে মাছ মারা গেলে ভাইরাসে মারা গেল কি না, তা জানতে খুলনায় পাঠাতে হয়। এটি তাঁদের জন্য কষ্টসাধ্য।

মশিউর রহমান বলেন, এল্লারচরে মৎস্য অধিদপ্তরের দুটি ল্যাব হয়েছে। একটি পিসিআর ল্যাব, অন্যটি কোয়ারেন্টাইন ল্যাব। পিএলএ ভাইরাসমুক্ত কি না, তা পরীক্ষার জন্য যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো খুবই সূক্ষ্ম। একজন কর্মকর্তা দিয়ে তাঁর অধীনে টেকনিশিয়ানসহ জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে সহজে রেনু ও বাগদার ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব। তাহলে প্রচুর বাগদা উৎপাদিত হবে এবং এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। জনবল নিয়োগ দিলে সাতক্ষীরার চিংড়ি চাষ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo

Follow for More!

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code
error: Content is protected !!