তদন্ত রিপোর্ট: সিলেটে চাঞ্চল্যকর রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামী তৎকালীন বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুইয়া ৬ মাসের অন্তরবর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন। দীর্ঘপ্রায় ৫বছর কারান্তরীন থাকার পর মহামান্য হাইকোর্ট তাকে জামিন প্রদান করেন। তার জামিনে মুক্তির খবরে সিলেট আবারও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক মহল থেকে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
আসলে আইনের শিথিলতা ও ফাকফোকরে জামিন পেয়েছেন খুনী আকবর। কারণ রায়হান হত্যাকাণ্ডে দন্ডবিধি আইনের ‘হত্যা ধারায়’ কোনো মামলাই রুজু হয়নি। মামলা রুজু হয়েছে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩ এর ধারায়। তাই মামলাটি অংকুরেই বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
বিগত ২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ শীর্ষক আলাদা এই আইন প্রণয়ন করে পুলিশকে সম্পূর্ণ বেপরোয়া বানিয়ে দিয়েছিল। কারণ এ আইনে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু বা পুলিশী নির্যাতনে মৃত্যুর বিষয়ে বড় কোনো শাস্তি নয়, বরং লঘু শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
এই আইনে বলা হয়েছে, “পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, শুল্ক, অভিবাসন বিভাগ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার ও ভিডিপি, কোস্টগার্ডসহ সরকারি কর্মকর্তারা নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিতে পারবেন না। আইনে বলা হয়েছে যে কোনও হেফাজতকারী কোনও বন্দীকে নির্যাতন করলে তিনি আইনের অধীনে অপরাধ করেছেন বলে দায়বদ্ধ হবেন। এতে বলা হয়েছে, যে কোনো ব্যক্তি অপরাধ করার চেষ্টা করলে, সহায়তা ও প্ররোচনা বা ষড়যন্ত্র করলে তাকে অবশ্যই অপরাধী হিসেবে গণ্য করতে হবে। আইনে বলা হয়েছে, হেফাজতে মৃত্যু হলে হেফাজতকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের ২,০০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে”।
বস্তুত পুলিশ হেফাজতে রায়হান হত্যাকাণ্ড মামলায় তেমন বড় কোনো শাস্তি বা মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই। তাই রায়হান হত্যা মামলায় বড় ধরণের শাস্তি বা সর্বোচ্ছ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আশা বাতুলতা মাত্র।
উল্লখ্য,২০২০ সালের ২১ অক্টোবর সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাড়িতে রায়হান হত্যার ঘটনা ঘটে।
Leave a Reply