নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: সিলেট মহানগরীতে সম্প্রতি পুলিশ কমিশনার কর্তৃক গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরাসরি নির্দেশনামূলক গণবিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ায় জনমনে গভীর সংশয় ও তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। আইনবিশারদ ও সচেতন মহলের মতে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন পদক্ষেপ বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ও পুলিশের এখতিয়ারের সীমা নিয়ে উচ্চকিত আলোচনা চলছে সাংবাদিক মহলে।
আইনি এখতিয়ার ও সাংবিধানিক বিতর্ক:
আইন বিশেষজ্ঞদের অভিমত অনুযায়ী, বাংলাদেশে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ কিংবা এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের একচ্ছত্র দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের, যা মূলত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে আদালতও সংবাদ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষমতা রাখেন। তবে প্রচলিত আইনে পুলিশ কমিশনারের সরাসরি মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ বা সংবাদ প্রবাহে দিকনির্দেশনা প্রদানের কোনো সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
বিশেষজ্ঞ মতামত ও পেশাদারিত্বের সংঘাত:
সিলেট জেলা আদালতের জনৈক জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর ভাষ্যমতে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশের হস্তক্ষেপের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।
তিনি উল্লেখ করেন, “সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে পুলিশের সরাসরি নির্দেশ প্রদানের কোনো এখতিয়ার নেই। তদন্তের স্বার্থে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে সমন্বয় কাম্য হতে পারে, কিন্তু সংবাদকর্মীদের গতিবিধি বা সংবাদ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের নামান্তর।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, পুলিশের মূল কর্তব্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধ দমন করা; সাংবাদিকতার সম্পাদকীয় নীতি নির্ধারণ করা নয়। সংবাদপত্র নিজস্ব নীতি ও পেশাগত নৈতিকতার (Professional Ethics) ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়, যেখানে পুলিশের নির্দেশনামূলক ভূমিকা অনভিপ্রেত।
সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া:
উল্লেখ্য যে, ২৯ এপ্রিল (বুধবার) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কমিশনার স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রজ্ঞাপন স্বাধীন সাংবাদিকতার টুটি চেপে ধরার শামিল।
সচেতন মহলের দাবি:
আইনের শাসন সুসংহত করতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গকে স্ব-স্ব ক্ষমতার পরিধির অভ্যন্তরে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশের এই অতি-উৎসাহী ভূমিকা সাংবাদিকতা ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যকার পেশাদারিত্বের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Leave a Reply