তদন্ত রিপোর্ট ডেস্ক: সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজারে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের শতকোটি টাকার সরকারি ভূমি আবারও বেপরোয়া অবৈধ দখলে চলে গেছে। মাত্র ছয় মাস পূর্বে প্রশাসন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের সাফল্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলা উদ্দিনের প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় ও নেতৃত্বে মহাসড়কের দু’পাশে গড়ে উঠছে পাকা ও টিনশেড স্থাপনা। ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি এবং সীমান্ত চোরাচালানের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই আওয়ামী লীগ নেতা সেখানে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, হরিপুর বাজারের কাপনা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে উত্তর দিকে প্রায় ৫০০ গজ অংশজুড়ে সওজ বিভাগের কঠোর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে অবৈধ নির্মাণযজ্ঞ। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পূর্বের উচ্ছেদ অভিযানের পর মহাসড়কে যানজট নিরসন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরলেও, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আলা উদ্দিনের আশকারায় পূর্বের দখলদাররাই পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দোকান ঘর বরাদ্দ দেওয়ার নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অগ্রিম অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বাণিজ্যও এখন ওপেন সিক্রেট।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আলা উদ্দিন সওজের ভূমি দখলের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে জানান, কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই তিনি বিগত চার বছর পূর্বে এই জায়গার ‘দখল’ সত্ত্ব ক্রয় করেছিলেন। বর্তমানে স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ীদের কাছে দুটি দোকান ঘর মাসিক ৬ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন তিনি। সড়ক দখলের এই নগ্ন চিত্র গণমাধ্যমে ধামাচাপা দিতে তিনি সাংবাদিকদের মোটা অঙ্কের ঘুষের প্রস্তাব দেন, যা নৈতিকতার প্রশ্নে সাংবাদিকরা প্রত্যাখ্যান করেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আলা উদ্দিনের এই অপরাধের বিস্তার কেবল ভূমি দখলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জৈন্তার সীমান্ত চোরাচালান রাজ্যেও তার রয়েছে গভীর ও প্রভাবশালী যোগসাজশ। গত ১৮ই মে মধ্যরাতে হরিপুরস্থ ফতেপুরে জেলা পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে (চেকপোস্ট) দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য বিদ্যুতের পাশে বসে চোরাই পণ্যের গাড়ির হিসাব ও দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায় তাকে। সে সময় ছদ্মবেশে থাকা এক সংবাদকর্মীর গাড়িকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তল্লাশি করার জন্য পুলিশকে প্ররোচিত করেন আলা উদ্দিন। তল্লাশিতে কিছু না পেয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা উল্টো এই নেতার কোপানলে পড়েন এবং তাকে শান্ত করতে তোষামোদির আশ্রয় নেন, যা প্রশাসনের ভেতরে অপরাধীদের জেঁকে বসার এক উদ্বেগজনক চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
ব্যস্ততম এই আন্তর্জাতিক মহাসড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ও পণ্যবাহী যান চলাচল করায়, নতুন করে এই অবৈধ দখলের ফলে তীব্র যানজট ও মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ প্রসঙ্গে জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রাণী দেব স্পষ্ট ভাষায় গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, সরকারি বা মহাসড়কের জায়গা দখল করে কোনো অবৈধ স্থাপনা বরদাশত করা হবে না। অতি দ্রুত হরিপুর বাজারে একটি বৃহৎ ও সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সিলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেছেন।
Leave a Reply