গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালুমহাল ঘিরে রণক্ষেত্র: রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শঙ্কা! | তদন্ত রিপোর্ট

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন

গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালুমহাল ঘিরে রণক্ষেত্র: রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শঙ্কা!

গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালুমহাল ঘিরে রণক্ষেত্র: রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শঙ্কা!

Manual2 Ad Code

মোঃ রায়হান হোসেন: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১০নং পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের নাইন্দার হাওর মৌজায় পৈতৃক মালিকানাধীন ভূমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Manual4 Ad Code

ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ:
বার্কিপুর গ্রামের হুসন আহমদের পুত্র বেলাল আহমদ বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বাউরবাগ হাওর এলাকার রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, দুলাল তালুকদার ও সিরাজুল তালুকদারসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাদীগণ দীর্ঘদিন ধরে নাইন্দার হাওর মৌজায় বাদীর পৈতৃক ভূমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এর ফলে আশপাশের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ইতিপূর্বে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার বালু লুট করার পর গত ১২ মে বিবাদীগণ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুনরায় প্রায় ৬ লক্ষ টাকার বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করে নিয়ে যায়।

Manual4 Ad Code

বাদী বেলাল আহমদ বলেন:
তারা এলাকার চিহ্নিত বালু খেকো। আমাদের পৈতৃক জমি থেকে জোরপূর্বক বালু তুলে নিচ্ছে। বাধা দিলে তারা দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখায়। বর্তমানে আমরা চরম জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

বিবাদী পক্ষের পাল্টা দাবি:
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান বিবাদী রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আমি আমার নিজের জায়গা থেকে নিয়ম মেনে রয়েলিটি দিয়েই বালু উত্তোলন করছি। এখানে প্রশাসনকে অবগত করেই কাজ চলে। উল্টো অভিযোগকারী বেলাল আহমদ তার দলবল নিয়ে আমার ভাই ও শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তারা আমাদের ফাঁসাতে নিজেদের অস্ত্র আমার নৌকায় রেখে নাটক সাজানোর চেষ্টা করছেন। হামলায় আমার তিনজন লোক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত:
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিতর্কিত ওই ভূমিটি (এলএসটি নং- ৫৮১/৬৭-৭০, এলএসপি নং- ৬১৩, ৬৯-৭০; মোট পরিমাণ ৩.৩১০০ একর) কোনো ইজারাভুক্ত বালুমহাল নয়। সরকার কর্তৃক এই এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি বা ইজারা প্রদান করা হয়নি। ফলে সেখান থেকে যেকোনো ধরনের বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ, মূলত ইজারা বহির্ভূত জায়গা থেকে বালু উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

প্রশাসনের বক্তব্য:
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Manual2 Ad Code

বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo

Follow for More!

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code
error: Content is protected !!