নিজস্ব প্রতিবেদক, জৈন্তাপুর: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে কর্মরত একজন সরকারি চাকুরিজীবীর ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন ‘শ্রমিকলীগ’-এর নবগঠিত কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের একজন বেতনভুক্ত কর্মচারী হয়েও সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে লিপ্ত হওয়া এবং দলীয় পদ অলঙ্কৃত করার এই ঘটনাটি বর্তমানে অত্র অঞ্চলের টক-অফ-দ্য-টাউনে পরিণত হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও জনরোষ: উক্ত সরকারি কর্মকর্তা কৃষি অফিসের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে শ্রমিকলীগের কমিটিতে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও সাধারণ কৃষকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংক্রান্ত খবরের স্ক্রিনশট ও কমিটির তালিকা ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও চাকুরির বিধিমালা লঙ্ঘন: সরকারি চাকুরিজীবী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন না কিংবা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন না।
নিরপেক্ষতা বিসর্জন: কৃষি অফিস একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শের ধারক হলে সাধারণ মানুষ বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রশাসনিক নৈতিকতা: উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হয়েও প্রকাশ্য রাজনীতিতে জড়ানো প্রশাসনিক শৃঙ্খলার চরম পরিপন্থী বলে গণ্য হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও উত্তেজনা: এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়টিকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে জৈন্তাপুরের বিভিন্ন হাট-বাজারে ও জনসমাগমস্থলে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়। যদিও পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বর্তমানে এলাকায় একপ্রকার থমথমে স্থিতাবস্থা বিরাজ করছে, তবে চাপা ক্ষোভ যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের মৌনতা ও জনদাবি: বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চললেও সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ বা উপজেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক ব্যাখ্যা বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেনি। কর্তৃপক্ষের এই নীরবতাকে অনেকেই ‘দায়সারা ভাব’ হিসেবে দেখছেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে রাজনীতির তল্পিবাহক হওয়া কেবল বেআইনিই নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকারের ওপর কুঠারাঘাত। আমরা চাই যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
স্থানীয় একজন সচেতন নাগরিক: সিলেটের সীমান্তবর্তী এই জনপদে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের গরিমা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে বিতর্কিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি। পরিস্থিতি বর্তমানে আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হলেও, জনমনে সৃষ্ট এই অসন্তোষ নিরসনে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Leave a Reply