তদন্ত রিপোর্ট ডেস্ক: ধর্মীয় শিক্ষার পবিত্র আঙিনায় এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এক নারী সংবাদকর্মীর সহায়তায় প্রকাশ্যে আসা তথ্যানুযায়ী, নেত্রকোনার মদন উপজেলায় স্থানীয় একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের লালসার শিকার হয়ে ১২ বছরের এক অবোধ শিশু এখন ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। অভিযুক্ত লম্পট শিক্ষক বর্তমানে সপরিবারে পলাতক।
ঘটনার নৃশংসতা ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা: মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০২২ সালে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ভুক্তভোগী শিশুটি এক বিধবা নারীর একমাত্র সন্তান, যার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। গত নভেম্বর মাসে শিক্ষক সাগর তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভীতি ও লোকলজ্জার আশঙ্কায় শিশুটি দীর্ঘ সময় নীরব থাকলেও তার শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি: বর্তমানে ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এই শিশুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক প্রসব এই শিশুর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।
অভিযুক্তের পলায়ন ও আইনি প্রক্রিয়া: ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত ১৮ এপ্রিল থেকে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর স্ত্রী-সন্তানসহ আত্মগোপনে চলে যান। এমনকি তিনি তার নিকটাত্মীয়দের সাথেও সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার গত বৃহস্পতিবার মদন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মামলা গ্রহণ করেছি। পলাতক আসামি আমান উল্লাহ সাগরকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, একজন ধর্মশিক্ষকের এমন জঘন্য লালসার শিকার হয়ে একটি শিশুর জীবন আজ মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে থাকায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও বিচারহীনতার আশঙ্কা বিরাজ করছে। দোষী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
Leave a Reply