নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের পুণ্যভূমিতে সাংবাদিকতার মহান পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এক নারী উদ্যোক্তার ওপর পরিকল্পিত চাঁদাবাজি, মানসিক নিপীড়ন এবং সম্মানহানির এক ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
নগরীর রিকাবীবাজারস্থ ‘স্বপ্না ফিজিওথেরাপি ও হিজামা সেন্টার’-এর স্বত্বাধিকারী এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী স্বপ্না বেগম এই দুর্বৃত্তায়নের শিকার হয়েছেন। এই মর্মে গত ২৬শে এপ্রিল তিনি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দপ্তরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি বিধিবদ্ধ অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ধারাবাহিক তঞ্চকতা:
অভিযোগের বিবরণী হতে প্রতীয়মান হয় যে, বিগত এক দশক ধরে নগরীর ৬৫ নং পূর্ব স্টেডিয়াম মার্কেটে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সহিত চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছেন স্বপ্না বেগম। তিনি সিলেট উইমেন্স চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রাক্তন পরিচালক এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ রোটারিয়ান হিসেবে সামাজিক মণ্ডলে সুপরিচিত। তবে গত জানুয়ারি মাস হতে একদল স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর এই ব্যবসায়িক ও সামাজিক লব্ধ প্রতিষ্ঠাকে কলুষিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
তদন্তাধীন নথিপত্র অনুযায়ী, সিলেট মহানগর যুব-মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদিকা অভিযুক্ত লাকী আহমেদ ওরফে লাকী আক্তার গত জানুয়ারি মাসে ৩/৪ জন যুবকসহ উক্ত প্রতিষ্ঠানে অতর্কিত প্রবেশ করে সাংবাদিক পরিচয়ে ১৫,০০০ টাকা চাঁদা দাবি করেন। উক্ত অনৈতিক দাবি প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অখ্যাত কিছু অনলাইন পোর্টালে স্বপ্না বেগম ও তাঁর চিকিৎসাকেন্দ্রের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ, কাল্পনিক এবং মানহানিকর সংবাদ প্রচার করতে শুরু করে।
চাঁদাবাজির মাত্রা ও মনস্তাত্ত্বিক বলপ্রয়োগ:
ঘটনার ভয়াবহতা বৃদ্ধি পায় গত ১৭, ১৮ এবং ২১শে এপ্রিল, যখন অভিযুক্ত বাল্মী আহমেদ ও খাদিজা বেগমের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ৫/৬ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র পুনরায় সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে।
অভিযোগকারিণীর দাবি অনুযায়ী:
এই বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে দুর্বৃত্তরা তাঁকে সামাজিকভাবে নিশ্চিহ্ন করা এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি প্রদান করে। কেবল আর্থিক শোষণই নয়, বরং বিভিন্ন অপকৌশলে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন কর্মীদের প্ররোচিত করে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বিনষ্টের অপচেষ্টাও এই চক্রটি চালিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর আর্তি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ:
প্রতিনিয়ত এই মানসিক যাতনা এবং অপপ্রচারের ফলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বপ্না বেগম বলেন, একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে দীর্ঘ ১০ বছর কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত আমার সামাজিক মর্যাদা ও প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে ভুলুণ্ঠিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রচারের ফলে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের নিকট এই ‘হলুদ সাংবাদিকতার’ আড়ালে লুকিয়ে থাকা চাঁদাবাজ চক্রের মূল উৎপাটন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সবিনয় প্রার্থনা করছি।
পুলিশের আশ্বাস:
অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। আইনানুগ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। নগরীর সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিক মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply