সীমান্তজুড়ে আব্দুল্লাহ-রিয়াজ সিন্ডিকেটের রাজত্ব, পুলিশ ম্যানেজ! | তদন্ত রিপোর্ট

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

সীমান্তজুড়ে আব্দুল্লাহ-রিয়াজ সিন্ডিকেটের রাজত্ব, পুলিশ ম্যানেজ!

সীমান্তজুড়ে আব্দুল্লাহ-রিয়াজ সিন্ডিকেটের রাজত্ব, পুলিশ ম্যানেজ!

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট: প্রকৃতি ও পাহাড়-বেষ্টিত সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১১নং মধ্য জাফলংয়ের রাধানগর সীমান্ত এখন চোরাকারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বিট অফিসারকে অনৈতিকভাবে ‘ম্যানেজ’ করে অঘোষিত এক সম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন আব্দুল্লাহ ও রিয়াজ নামে দুই ব্যক্তি। তাদের ছত্রছায়ায় প্রতিদিন সীমান্ত ডিঙিয়ে আসছে নিষিদ্ধ মাদক ও ভারতীয় পণ্যের বিশাল বহর। অবৈধ বালু উত্তোলন আর চোরাচালানের এই মহোৎসবে ধ্বংসের মুখে জনপদ ও পরিবেশ, অথচ প্রশাসনিক নীরবতায় জনমনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Manual6 Ad Code

সিএনজি চালক রিয়াজের উত্থান রহস্য:
অনুসন্ধানে জানা যায়, রিয়াজ এক সময় সিএনজি চালক হিসেবে জীবন অতিবাহিত করতেন। ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আকস্মিকভাবে তিনি চোরাচালান পথের লাইনম্যান হিসেবে আবির্ভূত হন। রাজনৈতিক দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, রিয়াজ একদিকে রাজনৈতিক কর্মীদের টাকা আত্মসাৎ করছেন, অন্যদিকে বিশেষ ফায়দা লুটতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কিছু ক্যাডারকে নিয়মিত মাসিক মাসোহারা দিয়ে লালন করছেন। নিজের আখের গোছাতে যুবলীগ নেতা আইনুল হককে ‘পার্টনার’ হিসেবে ব্যবহার করে রিয়াজ এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে সীমান্তের অন্ধকার চোরাগলির আয়।

Manual2 Ad Code

আব্দুল্লাহর লাঠিয়াল বাহিনী ও সিন্ডিকেট:
দশ বছর আগে জাফলংয়ের বোমা মেশিনের সাধারণ লাইনম্যান হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা আব্দুল্লাহ এখন সীমান্তের অন্যতম মাফিয়া। বিগত সরকারের হেভিওয়েট নেতাদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের সুবাদে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজস্ব ‘লাঠিয়াল বাহিনী’। অভিযোগ রয়েছে, বিট অফিসারকে প্রভাবিত করে তিনি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন। মধ্য জাফলংয়ের রাধানগর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিক্স, মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটের মতো ভয়াবহ সব মাদক অবাধে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। আব্দুল্লাহর নির্দেশে তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা সীমান্তের নিরাপত্তা বেষ্টনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চোরাচালানকে শিল্পে রূপ দিয়েছে।

Manual1 Ad Code

রাজনৈতিক বলয়ের নিরাপত্তা ও অর্থের বণ্টন:
চোরাচালানের এই বিশাল অর্থের ভাগ যাচ্ছে বহুমুখী খাতে। স্থানীয়দের দাবি, সংগৃহীত টাকা প্রতি সপ্তাহে ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং বিএনপির নামধারী কতিপয় নেতার মধ্যে বণ্টন করা হয়। রাজনৈতিক লেবাসধারী এই অংশটিই মূলত রিয়াজ ও আব্দুল্লাহর ঢাল হিসেবে কাজ করে। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদ করলে আব্দুল্লাহর নিজস্ব বাহিনীর মাধ্যমে হেনস্তার শিকার হতে হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

পরিবেশ বিপর্যয় ও জনরোষ:
চোরাচালানের পাশাপাশি পিয়াইন নদী সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ-রিয়াজ সিন্ডিকেট অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এতে সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকার ভৌগোলিক কাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর মতে, রাধানগর এখন ‘চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য’। প্রশাসনের উদাসীনতা এবং স্থানীয় বিট অফিসারের রহস্যজনক ভূমিকা সাধারণ মানুষকে হতাশ করে তুলেছে। তারা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থন:
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ ও রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। সংক্ষিপ্ত উত্তরে তারা বলেন, আমরা এখন লাইনের কাজ করি না, আমাদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা। তবে সরেজমিনে স্থানীয়দের বক্তব্যে এবং তাদের বর্তমান জীবনযাত্রার চাকচিক্যে এই দাবির কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপই এখন মধ্য জাফলংবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code