নিজস্ব সংবাদদাতা: সুনামগঞ্জ শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই স্বীয় কর্মদক্ষতা, অকুতোভয় সাহসিকতা এবং নিরেট সততার এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) অভিজিৎ ভৌমিক। মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, অবৈধ পন্থায় বালু ও পাথর উত্তোলন প্রতিরোধ এবং চোরাকারবারিদের অপতৎপরতা রুখে দিতে তাঁর ইস্পাতকঠিন অবস্থান ও ধারাবাহিক সাড়ম্বর সাফল্য সমগ্র জেলাজুড়ে বিপুল প্রশংসার উদ্রেক করেছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন ও অপরাধ দমনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি তাঁকে এক বিশেষ সম্মাননা স্মারকে ভূষিত করা হয়েছে। বিদায়ী জুলাই মাসে তাঁর প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব ও সুনিপুণ পরিকল্পনায় পরিচালিত এক দুঃসাহসিক অভিযানে প্রায় ঊনপঞ্চাশ লক্ষ টাকা সমমূল্যের ৩৫০ পিস ভারতীয় কাতান শাড়ির এক বিশাল চালান জব্দ করা হয়। এই যুগান্তকারী ও সফল চোরাচালান বিরোধী অভিযানে অনন্যসাধারণ ভূমিকা পালনের নিমিত্তে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে এই গৌরবদীপ্ত সম্মাননা প্রদান করা হয়।
কেবলমাত্র চোরাচালান প্রতিরোধেই তাঁর ভূমিকা সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিজ দায়িত্বাধীন এলাকার সার্বিক নিরাপত্তায় তিনি বহুমুখী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ইজারাবিহীন ধোপাজান চলতি নদীর বক্ষ হতে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে তিনি নৌকা ও সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের হাতেনাতে বমাল গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। তদুপরি, বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অতর্কিত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ বহু দুষ্কৃতিকারীকে আইনের লৌহকপাটে আবদ্ধ করেছেন এই চৌকস কর্মকর্তা।
শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে তাঁর এই প্রোজ্জ্বল সাফল্য ও জনবান্ধব পদক্ষেপসমূহ সাধারণ নাগরিকদের মানসপটে পুলিশের প্রতি আস্থার পারদকে আরও ঊর্ধ্বমুখী করেছে। অপরাধের মূলোৎপাটন এবং জননিরাপত্তার সুদৃঢ় বলয় নিশ্চিতে তাঁর এই অদম্য ও ক্লান্তিহীন কর্মতৎপরতা সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে করেছে আরও মহিমান্বিত।
স্বীয় সাফল্যের প্রেক্ষাপটে এসআই অভিজিৎ ভৌমিক ব্যক্ত করেন, “সুনামগঞ্জ শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্তির পর থেকে আমার ওপর অর্পিত পবিত্র কর্তব্য আমি সর্বদা সততা, ঐকান্তিক নিষ্ঠা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে প্রতিপালনের নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।” তিনি জুলাই মাসের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার কিংবা মাদক ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত সফল অভিযানসমূহের কৃতিত্ব তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুচারু দিকনির্দেশনা এবং সহকর্মীদের সম্মিলিত সহযোগিতাকে প্রদান করেন।
অধিকন্তু তিনি দৃঢ়তার সাথে উচ্চারণ করেন, “‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’ এই শাশ্বত মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সুনামগঞ্জকে একটি সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল জনপদে রূপান্তরিত করতে আমি বদ্ধপরিকর। প্রাপ্ত সম্মাননা স্মারক আমার পেশাগত দায়বদ্ধতা ও অন্তর্নিহিত প্রেরণাকে বহুগুণে শাণিত করেছে। আগামী দিনগুলোতেও আপামর জনসাধারণের জানমাল সুরক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমার এই আপসহীন লড়াই অব্যাহত থাকবে। সর্বোপরি, সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসাই আমার পথচলার মূল পাথেয়।”