গোলাপগঞ্জ সংবাদদাতা: সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানায় চোরাচালানকৃত ভারতীয় চা পাতা জব্দের ঘটনায় নজিরবিহীন জালিয়াতি ও আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। খোদ পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধার হওয়া ৬৬ বস্তা চা পাতার মধ্যে ১৬ বস্তাই সরকারি নথিপত্র থেকে বেমালুম গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। নথিপত্রের এই ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ জনমনে পুলিশের স্বচ্ছতা নিয়ে চরম প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন গোলাপগঞ্জের পুরাতন থানাঘাট এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ স্বচক্ষে নৌকা থেকে ৬৬ বস্তা চা পাতা নামিয়ে পুলিশের পিকআপ ভ্যানে তুলতে দেখেন। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা এসআই আবু সাঈদ সেই সম্পূর্ণ মালামাল নিয়ে থানায় ফেরেন। কিন্তু চরম বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, পরবর্তীতে আদালতের মামলার এজাহার ও পুলিশের সরকারি খাতায় জব্দকৃত চা পাতার পরিমাণ দেখানো হয় মাত্র ৫০ বস্তা। অর্থাৎ, ১৬ বস্তা চা পাতা সম্পূর্ণ রহস্যজনকভাবে নথির বাইরে রেখে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত এসআই আবু সাঈদ অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সাক্ষীদের উপস্থিতিতে যথাযথভাবে গণনা করেই ৫০ বস্তার জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এসআইয়ের এই দাবির মূলে কুঠারাঘাত করেছে মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর স্ববিরোধী ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য। ওই সাক্ষী প্রথমে গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেন যে তিনি কোনো বস্তা গণনা করেননি। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কিছুক্ষণ পরই সুর পাল্টে দাবি করেন যে তিনি গণনা করেছেন। একজন সাক্ষীর এমন ঘনঘন বক্তব্য পরিবর্তন ও অসংলগ্ন আচরণ মূলত উদ্ধারকৃত মালামালের প্রকৃত সংখ্যাকে ধামাচাপা দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত অপপ্রয়াস বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, আইনের রক্ষকদের দ্বারা প্রমাণ লোপাট বা আত্মসাতের এই অভিযোগ চরম উদ্বেগজনক। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে প্রাথমিক জব্দ তালিকা, মামলার মূল নথি, থানার মালখানার রেকর্ড এবং ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দির চুলচেরা বিশ্লেষণ অপরিহার্য।
গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি খতিয়ে দেখার মৌখিক আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি বা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে জনমনে ক্ষোভ ও শঙ্কা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে গোলাপগঞ্জে এসআই সাঈদের ভেলকি!গোলাপগঞ্জে এসআই সাঈদের ভেলকি!সরকারি নথির আড়ালে গায়েব হওয়া সেই ১৬ বস্তা চা পাতা আসলে কার পকেটে ঢুকল?