বিশেষ প্রতিবেদক: সিলেটের সীমান্তবর্তী তামাবিল স্থলবন্দর এলাকা, নলজুরী, খাঁসি হাওর ও সোনাটিলাজুড়ে গড়ে উঠেছে এক বিশাল অপরাধের সাম্রাজ্য। নিজেকে ‘বড় ব্যবসায়ী’ পরিচয় দেওয়া রাসেলের নেতৃত্বে সীমান্ত এলাকায় চলছে একচ্ছত্র রামরাজত্ব। অভিযোগ উঠেছে, চোরাচালান, মানবপাচার এবং নিষিদ্ধ মাদকের সিন্ডিকেট পরিচালনার মাধ্যমে পুরো সীমান্ত ও সরকারি পোর্ট এলাকার নিয়ন্ত্রণ এককভাবে কবজা করে রেখেছে এই প্রভাবশালী চক্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী দলীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় তামাবিল স্থলবন্দর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন রাসেল। গত বছরের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কিছুকাল ব্যাকফুটে থাকলেও, অতি সম্প্রতি তিনি সাধারণ ব্যবসায়ীদের কোণঠাসা করে আবারও বন্দর ও সীমান্ত এলাকার নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহালের তোড়জোড় শুরু করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাসেল সীমান্ত এলাকাকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে এক শক্তিশালী চোরাচালানি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ভারত থেকে অবৈধ পণ্য আনা, মাদক চোরাচালান এবং সীমানা পেরিয়ে মানবপাচারের মতো মারাত্মক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার চক্র সরাসরি জড়িত। এর ফলে সাধারণ ও বৈধ ব্যবসায়ীরা মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছেন এবং ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাসেলের একক আধিপত্যের কাছে পুরো তামাবিলের ব্যবসায়ীরা আজ জিম্মি। তিনি বন্দর ও আশপাশের এলাকার স্বাভাবিক বাণিজ্যিক পরিবেশ পুরোপুরি ধ্বংস করে নিজের অপকর্মের আখড়ায় পরিণত করতে চাইছেন।
এসব ব্যাপারে অভিযোগ রাসেল এর ব্যবহৃত সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোনকল রিসিভ না করায় বক্তব্য সংগ্রহ করা যায় নি।
সীমান্ত সুরক্ষা ও সরকারি স্থলবন্দরের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। রাসেলের এই অবৈধ সাম্রাজ্য ও আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টা রুখতে গোয়াইনঘাট থানা প্রশাসনসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। তারা অবিলম্বে সরজমিন নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে রাসেল ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply