নিজস্ব সংবাদদাতা: সিলেটের জৈন্তাপুরস্থ ‘সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও নির্ভীক সাংবাদিক মোঃ রায়হান হোসেনের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও লক্ষাধিক টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় অবশেষে মামলা রুজু হয়েছে। গত ১৪ মে ঘটনা ঘটলেও অদৃশ্য কারণে ঘটনার দীর্ঘ ৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর, গত ১৯ মে সিলেটের জৈন্তাপুর থানা পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে, যাহার থানার মামলা নং- ১১। উক্ত মামলায় ১ জনকে নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ৪ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার মূলহোতা জুয়েল আহমদ (৩০) সিলেটের জৈন্তাপুর থানার করমাটি (ঠাকুরের মাটি) গ্রামের হুরমত আলীর পুত্র বলে জানা গেছে।
পুলিশ প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর মামলাটি নথিভুক্ত করলেও, ঘটনার ৮ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও মূলহোতা বা তার সহযোগীদের কাউকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে আসামিরা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়, মামলা প্রত্যাহার না করলে সাংবাদিক রায়হানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা চরম উদ্বেগজনক। বর্তমানে মামলাটির তদন্তভার ন্যস্ত রয়েছে জৈন্তাপুর থানার এসআই মাহমুদুল হাসান খানের ওপর। তবে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহবুবুর রহমান মোল্লা মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আসামিরা পলাতক থাকলেও তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান ও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, মূলহোতা জুয়েল পূর্বে জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার অবৈধ পশুর বাজারের তথ্য আদান-প্রদানের সুবাদে সাংবাদিক রায়হান হোসেনের পূর্ব পরিচিত ছিল। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানির পশু ক্রয়ের উদ্দেশ্যে গত ১৪ মে ২০২৬ খ্রি. তারিখ বিকেলে রায়হান হোসেন তাঁর মায়ের সঞ্চিত ও ব্যক্তিগত মোট ১,৩৫,০০০/- টাকা নিয়ে শাহপরানের কেওয়া পীরের বাজারস্থ আর. রহমান ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। পরবর্তীতে মূলহোতা জুয়েল মোটরসাইকেল যোগে সেখানে উপস্থিত হয়ে রায়হান হোসনকে তাঁর নিজস্ব সাইকেলটি রেখে মোটরসাইকেলে করে চিকনাগুল বাজারে যাওয়ার জন্য প্ররোচিত করে। সরল বিশ্বাসে রায়হান হোসেন তাঁর সাথে বাজারে যান। বাজারে কাঙ্ক্ষিত পশু না পেয়ে পুনরায় পীরের বাজারে ফেরার পথে, পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী মূলহোতা জুয়েল তার মোবাইল ফোনে কৃত্রিম কলের অজুহাত দেখিয়ে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। তৎক্ষণাৎ বিপরীত দিক থেকে একটি নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশা এসে তাদের পথ আটকায় এবং সিএনজি থেকে ৩ জন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী কাঠের রুল হাতে নিয়ে রায়হানের ওপর চড়াও হয়। রায়হান আত্মরক্ষার্থে পালানোর চেষ্টা করলে, সহযোগী মূলহোতা জুয়েল তাঁকে দুষ্কৃতকারীদের মুখে ঠেলে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দুষ্কৃতকারীরা রায়হানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাঠের রুল দিয়ে আঘাত করলে তাঁর ডান পায়ের হাঁটু ও কাঁধে গুরুতর জখম হয়। এ সময় বিবাদীরা তাঁর কোমরে থাকা ১,৩৫,০০০/- টাকা এবং পকেট থেকে ২৫,০০০/- টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার এখানেই শেষ নয়, তামাবিল মহাসড়কে পথচারীরা এগিয়ে আসলে বিবাদীরা সাংবাদিক রায়হানকে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে নিয়ে শুক্রবাড়ি বাজার সংলগ্ন ঘাটেরচটি টার্নিং নামক নির্জন স্থানে ফেলে যায় এবং আইনি পদক্ষেপ নিলে প্রাণনাশের চূড়ান্ত হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় স্বজনদের সহায়তায় খাদিমপাড়াস্থ সরকারি ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
Leave a Reply