নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট নগরীর কানিশাইল খেয়াঘাট এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) আকস্মিক অভিযান চলাকালে আতঙ্কে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে জজ মিয়া (৬০) নামক এক বৃদ্ধ রিকশাচালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সংঘটিত এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সিটিএসবি এবং সদর ও প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আফজাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বার্তায় এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকালে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কানিশাইল খেয়াঘাট এলাকায় কুখ্যাত ‘শিলং তীর’ জুয়ার আসর উচ্ছেদে ঝটিকা হানা দেয় সিলেট মহানগর ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল। ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়াড়িরা দিগ্বিদিক ছুটে পালাতে শুরু করে। এ সময় ৪-৫ জন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে জজ মিয়া নামক ওই বৃদ্ধ প্রাণভয়ে সরাসরি নদীতে ঝাঁপ দেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় ২-৩ জন ব্যক্তির তড়িৎ সহায়তায় তাঁকে নদী থেকে উদ্ধার করে শুকনো তীরে তুলে আনা হয়। তবে পানি থেকে ওঠার পরপরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় জনতার পরামর্শে ডিবি পুলিশের সদস্যরাই তাঁকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা প্রদানকালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত জজ মিয়া পেশায় একজন দরিদ্র রিকশাচালক ছিলেন এবং পূর্ব থেকেই তিনি জটিল হৃদরোগে ভুগছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। আতঙ্কে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া এবং শারীরিক অসুস্থতার জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত জজ মিয়ার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানাধীন বাদঘাট এলাকায়। তাঁর পিতার নাম মৃত মৌলু মিয়া। বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানাধীন শামীমাবাদের ১ নম্বর রোডে বসবাস করতেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত বৃদ্ধের নিথর দেহ বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষিত রয়েছে।