তদন্ত প্রতিবেদক: সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত এখন যেন মানব পাচারকারীদের নিরাপদ অভয়ারণ্য। আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন এই ভয়ংকর অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে একটি সংঘবদ্ধ ও বেপরোয়া সিন্ডিকেট। আর এই ঘৃণ্য চক্রের মূল হোতা হিসেবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শাহীন ওরফে জানু। দুই থানায় একাধিক মামলা থাকার পরও এই ব্যক্তি কীভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে এমন জঘন্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রের চাঞ্চল্যকর তথ্যমতে, গোয়াইনঘাট উপজেলার পান্তুমাই, বাদেপাশা ও হাজিপুর সীমান্তকে মানব পাচারের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করছে এই মাফিয়া চক্র। নিরীহ মানুষকে ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করা এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের এই জঘন্য বাণিজ্যের নেপথ্য কারিগর শাহীন ওরফে জানু। অভিযোগ রয়েছে, তার একক ইশারায়ই পরিচালিত হচ্ছে সীমান্ত এলাকার এই অবৈধ নেটওয়ার্ক।
গুরুতর এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহীন ওরফে জানুর জবাবদিহিতা চাইতে তার সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত সুচতুরভাবে সে ফোন এড়িয়ে যায়, যা তার অপরাধের দায় এড়ানোর হীন মানসিকতা ও গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে।
প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন রমরমা মানব পাচার নিয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়লের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না, আইন অনুযায়ী যথাযথ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত দিয়ে এমন নির্বিঘ্ন মানব পাচারের খবরে স্থানীয়দের মাঝে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে এই মানব পাচারকারী সিন্ডিকেটের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এখনই সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে গডফাদার শাহীন ওরফে জানুসহ এই চক্রের প্রতিটি সদস্যকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।