১০ হাজার টাকায় নদী বিক্রি করলেন আইসি! | তদন্ত রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

১০ হাজার টাকায় নদী বিক্রি করলেন আইসি!

১০ হাজার টাকায় নদী বিক্রি করলেন আইসি!

Manual5 Ad Code

মোঃ রায়হান হোসেন: নদী বাঁচাতে যাদের পাহারায় থাকার কথা, তারাই যদি টাকার লোভে নদী ধ্বংসের পাহারাদার হয়ে ওঠেন, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাসিক চুক্তিতে চলছে অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য। আর এই দুর্নীতির মূল হোতা খোদ লালপুর নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) সজল কানু। মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে নদীখেকোদের হাতে তিনি তুলে দিয়েছেন ধ্বংসের লাইসেন্স। সম্প্রতি একটি অবৈধ ড্রেজার আটকের পর ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে বেরিয়ে এসেছে প্রশাসনের এই চরম কলঙ্কজনক অধ্যায়।

জানা যায়, গত ২৮ জুলাই আইসি সজল কানুর অগোচরেই নদীতে অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ ড্রেজার আটক করেন নৌ-ফাঁড়ির অন্যান্য সদস্যরা। আটকের পর ড্রেজারটি ছাড়িয়ে নিতে মালিক কুদ্দুসের সাথে এক পুলিশ সদস্যের কথোপকথনের অডিও ফাঁস হলে সজল কানুর ঘুষ বাণিজ্যের থলের বিড়াল জনসম্মুখে বেরিয়ে আসে।

Manual2 Ad Code

ফাঁস হওয়া ওই রেকর্ডে স্পষ্ট শোনা যায়, পুলিশ সদস্য যখন জানতে চান কার মদদে বা সাহসে এই অবৈধ ড্রেজার চলছে, তখন মালিক কুদ্দুস অকপটে স্বীকার করেন আইসি সজল কানুর সাথে তাদের গোপন মাসিক চুক্তির কথা। প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মাসোহারা পকেটে পুরে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা অবৈধ ড্রেজার চলাচলের বৈধতা দিয়ে আসছিলেন। অডিওতে কুদ্দুস নিজেকে মোহনগঞ্জের বাসিন্দা দাবি করে ‘ভাই’ সম্বোধনে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেন এবং নগদ অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালান।

Manual2 Ad Code

তবে ড্রেজার আটকের সময় নদীর দুই পাড়ে শত শত মানুষের উপস্থিতি থাকায় ওই পুলিশ সদস্য এই অনৈতিক প্রস্তাব সাহসিকতার সাথে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন, জনগণের সামনে আটক করা ড্রেজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়ে তিনি জাতির সাথে ‘মীরজাফরি’ করতে পারবেন না।

Manual2 Ad Code

পরিবেশ ও নদী রক্ষায় নিয়োজিত একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন নগ্ন দুর্নীতি প্রমাণ করে, ‘সর্ষের ভেতরেই ভূত’ লুকিয়ে আছে। রক্ষকের পোশাকে এই ভক্ষক সজল কানু কেবল নদীর পরিবেশই ধ্বংস করেননি, গোটা পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

এই অডিও ফাঁসের পর স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের জোর দাবি, অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ আইসি সজল কানুকে প্রত্যাহার ও বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত এবং কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। টাকার বিনিময়ে দেশের সম্পদ ধ্বংসকারী কোনো অসাধু কর্মকর্তার জায়গা প্রশাসনে হতে পারে না।

Manual1 Ad Code

ধারাবাহিক সংবাদ নং- ১২

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code