ওসমানীতে রুবেলের দাস প্রথায় বন্দি ২৬০ শ্রমিক | তদন্ত রিপোর্ট

শনিবার, ১৮ Jul ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

ওসমানীতে রুবেলের দাস প্রথায় বন্দি ২৬০ শ্রমিক

ওসমানীতে রুবেলের দাস প্রথায় বন্দি ২৬০ শ্রমিক

Manual6 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদক: সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবার শেষ ভরসাস্থল। কিন্তু এই মানবিক সেবার আড়ালেই গড়ে উঠেছে এক বিভীষিকাময় সিন্ডিকেট ও আধুনিক দাস প্রথা। হাসপাতালের ২৬০ জন আউটসোর্সিং (ঠিকাদারি) স্টাফের ঘাম আর রক্ত জল করা উপার্জনে নিজের পকেট ভারী করছেন এক রহস্যময় ব্যক্তি। তার নাম রুবেল আহমেদ রানা। অভিযোগ উঠেছে, তার ইশারা ছাড়া হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মীদের ঘাসের পাতাও নড়ে না। আর তার পকেটে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা না গেলে জ্বলে না কয়েকশ শ্রমিকের ঘরের চুলা!

Manual2 Ad Code

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘সাউদিয়া সিকিউরিটি সার্ভিস’-এর একজন সাধারণ সুপারভাইজার এই রুবেল আহমেদ রানা। নাম ও পদবিতে সাধারণ সুপারভাইজার হলেও হাসপাতালের ভেতরে তার দাপট কোনো প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার চেয়ে কম নয়। নিজেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আসছেন। দুর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্যের এমন এক জাল তিনি বিছিয়েছেন, যেখানে ২৬০ জন স্টাফের জীবন এখন শুধুই দাবার ঘুঁটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী স্টাফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রুবেল যা বলবে তা-ই শেষ কথা। টাকা না দিলে ডিউটি পাওয়া যায় না। ভালো ও ‘লাভজনক’ ওয়ার্ডে ডিউটি পেতে হলে দিতে হয় আলাদা মাসোহারা। আমরা ওনার কাছে মানুষ না, টাকা বানানোর মেশিন।

এই সিন্ডিকেটের শেকড় কত গভীরে, তার প্রমাণ মেলে হাসপাতালের পুরনো নথিপত্র ঘাটলে। ২০২২ সালে জনবল নিয়োগে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে ‘সোহেল’ নামের এক ওয়ার্ডবয়কে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাক লিস্টেড) করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেই নিষিদ্ধ সোহেলকে পুনরায় বহাল করেছেন রুবেল। বর্তমানে এই সোহেলই রুবেলের ‘ডানহাত’ হিসেবে পরিচিত এবং তার যাবতীয় অবৈধ আয়ের ক্যাশ কাউন্টার সামলান। গাইনি ওটি (অপারেশন থিয়েটার) থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও সংবেদনশীল ওয়ার্ড—সবখানেই এখন নিষিদ্ধ সোহেলের রাজত্ব, যার নেপথ্যে রয়েছে রুবেলের গ্রিন সিগন্যাল।

Manual3 Ad Code

সাউদিয়া সিকিউরিটির শুরুর সময় থেকে কাজ করা চন্দন নামের এক স্টাফের গল্পটি আরও শোচনীয়। তার অপরাধ ছিল—তিনি রুবেলের দাবি করা ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে পারেননি। শাস্তি হিসেবে প্রতিদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটলেও হাজিরা খাতায় তার নাম তোলা হয় না। চন্দনের মতোই অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন ৮ নং ওয়ার্ডের জুয়েল কিংবা ২৭ নং ওয়ার্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্টাফ। সবার মুখেই এখন একই আতঙ্কের নাম ‘রুবেল আহমেদ রানা’।

এই সিন্ডিকেটের ক্ষমতার উৎস ও অনিয়ম নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও কোনো সদুত্তর মেলেনি। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ রোগীদের মাঝে এই সিন্ডিকেট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ থাকলেও, রুবেলের অদৃশ্য ক্ষমতার ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ সবাই।

Manual2 Ad Code

২৬০টি ভুক্তভোগী পরিবারের এই কান্না ও শ্রম খাটানোর নামে শোষণ কি শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কান পর্যন্ত পৌঁছাবে? নাকি ক্ষমতার চাদরে ঢাকা পড়ে থাকবে রুবেলের এই রমরমা বাণিজ্য? সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রুবেল কেবল এই চক্রের সম্মুখভাগ বা ‘ফ্রন্টম্যান’ মাত্র। এই সিন্ডিকেটের পেছনে লুকিয়ে থাকা আসল ‘রাঘববোয়াল’ কারা, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code
error: Content is protected !!