সিলেট ব্যুরো: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা-লামাকাজী সড়কের রামপাশা আজিজনগর নামক স্থানে একটি সেতুর নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে জনজীবন চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গাফিলতি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় সড়কটি এখন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
অসমাপ্ত কাজ ও অন্ধকারের বিভীষিকা:
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ অর্থ বছরের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় দুইশত কোটি টাকা বরাদ্দে বিশ্বনাথের বিভিন্ন এলাকায় সংস্কার ও নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে আজিজনগরের জরাজীর্ণ সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে দীর্ঘ এক মাস ধরে সেতুর এক অংশ ভেঙে ফেলার পর কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিকল্প চলাচলের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় এই জনবহুল সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নৈশকালে পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং কোনো প্রকার সতর্কীকরণ সংকেত বা দিকনির্দেশনা না থাকায় স্থানটি এক মরণকূপে রূপ নিয়েছে।
রক্তাক্ত বৃহস্পতিবার ও ভাইরাল ভিডিও:
গত ৩০ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যারাতে এক মোটরসাইকেল আরোহী সতর্কীকরণ সংকেতবিহীন এই গর্তে পড়ে গুরুতর আহত হন। পথচারীদের ত্বরিত হস্তক্ষেপে তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও ঘটনার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের তদারকি নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। সচেতন মহলের মতে, সেখানে কোনো সুরক্ষা বেষ্টনী বা ‘কাজ চলছে’ সম্বলিত সাইনবোর্ড না থাকা কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলারই বহিঃপ্রকাশ।
দায়িত্বশীলদের মৌনতা ও জনক্ষোভ:
অভিযোগ উঠেছে, এলজিইডি এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বনাথের বিভিন্ন স্থানে একসাথে কাজ শুরু করলেও কোনোটিই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করছে না। এই চরম অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাব নিয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সাঈদের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সংবাদকর্মীদের ফোনকল রিসিভ করেননি। তার এই রহস্যজনক নীরবতা জনমনে ক্ষোভের দাবানল আরও উসকে দিয়েছে।
একটি জনবহুল সড়কের সেতু সংস্কারের নামে এভাবে মাসব্যাপী মরণফাঁদ তৈরি করে রাখা স্রেফ অপরাধের শামিল। প্রশাসনের এমন উদাসীনতা মেনে নেওয়া যায় না।
স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী:
সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও তদারকি জোরদার না করলে এই সড়কে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
Leave a Reply