শান্তিগঞ্জ সংবাদদাতা: সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কের ঠাইলা-ঠাকুরভোগ অংশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী প্রকাশ্য দিবালোকে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ‘মেসার্স মমিনুল হক, এম এ ওয়াহেদ জেবি’ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের সাইট থেকে কয়েক হাজার সিসি (কাস্টিং সিমেন্ট) ব্লক লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯ কোটি ৭৭ লক্ষ ৭৫ হাজার ৪৬ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২ হাজার ৬০০ মিটার দীর্ঘ মাটি ভরাট, আরসিসি ঢালাই, সাইট প্রটেকশন ওয়াল ও সিসি ব্লকের কাজ শুরু হয়। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের টাইলা গ্রাম থেকে ঠাকুরভোগ আশ্রয়কেন্দ্র পর্যন্ত কর্মযজ্ঞ চলমান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি রাস্তার সুরক্ষায় ঠাকুরভোগ আশ্রয়কেন্দ্র সংলগ্ন মাঠে প্রায় ৬০ হাজার সিসি ব্লক নির্মাণ করে মজুদ করে রেখেছিল। বর্তমানে সেখানে যত্রতত্র ব্লক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে এবং বিপুল পরিমাণ ব্লক উধাও হওয়ার চিহ্ন সুস্পষ্ট।
প্রকল্পের নৈশপ্রহরী আনোয়ার খাঁ জানান, গত মঙ্গলবার বিকেলে তিনি কর্মস্থল থেকে সামান্য দূরে অবস্থানকালে দেখতে পান যে, ঠাকুরভোগ গ্রামের মতলিব মিয়ার পুত্র আলী হোসেন তার মাহিন্দ্রা গাড়িযোগে বিপুল সংখ্যক সিসি ব্লক বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছেন। নৈশপ্রহরী চিৎকার করে তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও আলী হোসেন কর্ণপাত না করে দ্রুত প্রস্থান করেন। পরবর্তীতে গুনে দেখা যায়, মাঠ থেকে কয়েক হাজার ব্লক গায়েব হয়ে গেছে।
প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার কনক দত্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আলী হোসেন ও তার সহযোগীরা ইতিপূর্বেও আমাদের সাইট থেকে এক টন রড ও মাহিন্দ্রা গাড়ির ব্যাটারি চুরি করেছে। এবার দুঃসাহস দেখিয়ে প্রায় ৪-৫ হাজার সিসি ব্লক লুট করেছে। এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অভিযুক্ত আলী হোসেনের পিতা মতলিব মিয়া চুরির বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, তার পুত্র হাওর থেকে কৃষকের ধান পরিবহনের সময় গাড়িটি কাদা মাটিতে আটকে যাওয়ায় ৫০-৬০টি ব্লক ব্যবহার করেছে। তবে হাজার হাজার ব্লক চুরির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুল আলম এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তা পাঠিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছি। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মালামাল চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
Leave a Reply