মোঃ রায়হান হোসেন: রক্ষক যখন ভক্ষক হয়ে দাঁড়ায়, তখন সাধারণ মানুষের যাওয়ার জায়গা কোথায়? সম্প্রতি স্পিড বোট ঘাট এলাকায় চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের সাথে খোদ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের (আইসি) গোপন ও নোংরা আঁতাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। আইনের পোশাক গায়ে জড়িয়ে তিনি নিজেই অপরাধীদের কাছে অভিযানের অতি গোপনীয় তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছেন, যা আইনের শাসনকে রীতিমতো বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ আগস্ট, ২০২৬। ওই দিন ফাঁড়ির পুলিশ সদস্য ইমরান স্পিড বোট ঘাট এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনার জন্য আইসির কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন। কিন্তু অনুমতি দেওয়ার আড়ালে আইসি চরম বিশ্বাসঘাতকতার আশ্রয় নেন। তিনি তৎক্ষণাৎ স্পিড বোট ঘাটের সভাপতির ছেলে রুবেলকে ফোন করে অভিযানের খবর জানিয়ে দেন এবং তাকে সতর্ক করেন। শুধু তাই নয়, জয়নাল নামের আরেক চোরাকারবারীকে নিরাপদে মান্নান ঘাটে সরে যাওয়ার নির্দেশও দেন তিনি। আইসির এই চতুরতা ও দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে গত ২৭ আগস্ট মামলা দায়ের হওয়ার পর।
কথোপকথনের চাঞ্চল্যকর দুটি ভয়েস রেকর্ড ফাঁস হলে বেরিয়ে আসে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র। ফাঁস হওয়া ওই কল রেকর্ডে রুবেল নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়েছে, কীভাবে খোদ আইসি তাদেরকে অভিযানের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন এবং তার নির্দেশেই পাচারকারীরা মালপত্র নিরাপদে সরিয়ে ফেলার সুযোগ পেয়েছিল।
অডিও রেকর্ডগুলোতে কান পাতলেই শোনা যায় অপরাধ ও দুর্নীতির এক জঘন্য মহোৎসবের কথা। রাতের আঁধারে শত শত বস্তা মালের অবৈধ লেনদেন এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কীভাবে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চালানো হচ্ছে, তার সব তথ্যই উঠে এসেছে এই আলাপে।
কথোপকথনে শামিম, জুয়েল, আলী হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে, যারা মূলত এই ঘাট এলাকার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রকাশ্যেই অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মোবাইল ফোনে অবৈধ টাকার লেনদেন, বস্তাপ্রতি হিসাব করে ঘুষ বাণিজ্য, এমনকি উপঢৌকন হিসেবে দামি সানগ্লাস নেওয়ার মতো চরম নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্রও এই রেকর্ডে স্পষ্টভাবে শোনা গেছে।
আইনের রক্ষক হিসেবে শপথ নিয়ে যারা রাতের অন্ধকারে চোরাকারবারীদের পাহারাদার হিসেবে কাজ করছেন, এই অডিও রেকর্ডগুলো তাদের আসল মুখোশ টেনে ছিঁড়ে ফেলেছে। সর্ষের ভেতরেই যদি ভূত লুকিয়ে থাকে, তবে আইনশৃংখলা রক্ষা করবে কে? সচেতন মহলের একটাই প্রশ্ন? ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কি এখনই সময় নয় অকাট্য এই প্রমাণের ভিত্তিতে দুর্নীতিবাজ আইসি এবং তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার?
ধারাবাহিক সংবাদ নং- ১৫।