মোঃ রায়হান হোসেন: গত ২৫ জুলাই খাতায়-কলমে ছুটিতে ছিলেন লালপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) সজল কুমার কানু। কিন্তু তার প্রত্যক্ষ মদদ ও সম্মতিতেই ফাঁড়ির ঠিক পেছনেই ড্রেজার লাগিয়ে চলছিল অবৈধ লুটপাট। দিনের আলোতে পুলিশের নাকের ডগায় এমন বেপরোয়া অপরাধ চলতে দেখে ফাঁড়ির অপর এক পুলিশ সদস্য আইসিকে বিষয়টি ফোনে অবহিত করেন। তাদের সেই কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড থেকে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও চরম হতাশাজনক তথ্য।
ফাঁস হওয়া ওই রেকর্ডে শোনা যায়, কর্তব্যরত ওই পুলিশ সদস্য আইসিকে দুটি ড্রেজার চলার খবর জানান। এই অবৈধ কাজ বন্ধে নির্দেশ দেওয়ার বদলে আইসি উল্টো এই লুটপাটের পক্ষে নির্লজ্জভাবে সাফাই গান। তিনি জানান, জুয়েল নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে একটি ড্রেজার চলছে। অন্যদিকে বাজারের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ঘর তোলার দোহাই দিয়ে বাজার কমিটির জাহাঙ্গীর ও শামীম নামের ব্যক্তিদের অনুরোধে চলছে আরেকটি ড্রেজার।
জনগণ যখন পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং জানতে চাইছেন ড্রেজার ধরার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না, তখন আইসি চরম ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেন। রেকর্ডে তার দম্ভোক্তি শোনা যায়,যে কথা বলে, তাকে আমাকে ফোন দিতে বলেন। কে অনুমতির কথা বলে, আমি বলে দেব।
যেখানে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু বা মাটি কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি, সেখানে খোদ পুলিশ ফাঁড়ির পেছনে এমন হরিলুট সচেতন মহলকে ক্ষুব্ধ করেছে। রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া আইসি সজল কুমার কানুর এই কল রেকর্ড স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, অপরাধ দমনের বদলে তিনি নিজেই প্রভাবশালীদের সাথে আঁতাত করে এই অবৈধ কাজের মূল মদদদাতা। পুলিশের মতো একটি দায়িত্বশীল বাহিনীর পদে থেকে এমন অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়া আইনের শাসনকে চরমভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল।
ধারাবাহিক সংবাদ নং- ১০।