সিলেটে জুয়েলের দুর্ধর্ষ উত্থান! | তদন্ত রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

সিলেটে জুয়েলের দুর্ধর্ষ উত্থান!

সিলেটে জুয়েলের দুর্ধর্ষ উত্থান!

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: সিলেটের ধর্মপ্রাণ মানুষের অগাধ বিশ্বাস ও পবিত্র ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে জালিয়াতির এক বিশাল ও দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে নগরীর বন্দরবাজার ও লালদিঘীরপাড় এলাকার বিতর্কিত ব্যবসায়ী জুয়েল আহমদের বিরুদ্ধে। সাধারণ এক রিকশা গ্যারেজ চালক থেকে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ‘আলাদিনের চেরাগ’ হাতে পাওয়া এই ব্যক্তির বর্তমান সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

দেশি পণ্যই এখন বিদেশি:
অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয়েছে জুয়েল আহমদের প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র। জুয়েল তার মালিকানাধীন আল মদিনা বস্ত্র বিতান ও আল মদিনা কার্পেট হাউজ-এর মাধ্যমে মূলত সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিচ্ছেন। জানা যায়, তিনি ফরিদপুরের ‘মামুন গ্রুপ’-এর আর. এম কার্পেট লিমিটেড থেকে প্রতি গজ মাত্র ১৮০০ টাকায় ‘ক্রিস্টাল কোয়ালিটি’র দেশি কার্পেট ক্রয় করেন। পরবর্তীতে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সেই কার্পেটের আসল ট্যাগ সরিয়ে সেখানে তুরস্কের বিখ্যাত ‘আল-বিহা’ ব্র্যান্ডসহ ইন্দোনেশিয়া ও বেলজিয়ামের ভুয়া স্টিকার ও কিউআর কোড (QR Code) বসিয়ে দেন। এই দেশি কার্পেটগুলোই পরবর্তীতে তুর্কি আমদানিকৃত পণ্য হিসেবে বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের কাছে ৩২০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি করা হয়। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে তিনি গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী নিজস্ব সিন্ডিকেট।

রিকশা গ্যারেজ থেকে অঢেল সম্পদের মালিক:
অতীত ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, জুয়েল আহমদ একসময় সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে হিসেবে জীবনসংগ্রাম শুরু করেছিলেন রিকশার গ্যারেজ চালিয়ে। বিক্রমপুর থেকে সিলেটে আসা সেই নিঃস্ব জুয়েল আজ বিত্তবৈভবের শিখরে। তার বর্তমান সম্পদের তালিকায় রয়েছে- লালদিঘীরপাড়ে মাসিক ৭৫ হাজার টাকা ভাড়ার (১০ লাখ টাকা অগ্রিম) বিশাল শোরুম ও বন্দরবাজার এলাকায় একাধিক দোকান। মহাজনপটিতে ৩ তলাবিশিষ্ট বিশাল গোডাউন, লাখাউড়া বিমানবন্দর রোডে ১২ বিঘা জমি এবং ঢাকার মাওয়া রোডে ৪০ শতক মূল্যবান জায়গা। বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে তার নামে ও বেনামে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা রয়েছে বলে জানা গেছে।

Manual3 Ad Code

ব্যবসায়ী মহলে ক্ষোভ ও আইনি তৎপরতা:
জুয়েল আহমদের এই নজিরবিহীন জালিয়াতির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন সিলেটের সচেতন ব্যবসায়ী সমাজ। ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন, আলমগীর হোসেন ও আব্দুল খালেকসহ অনেকেই ইতিমধ্যে একাধিক গণমাধ্যম অভিযোগ করেছেন যে, কোর্ট পয়েন্টের কালেক্টর মসজিদসহ অসংখ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দান করা অর্থ এভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জুয়েলের বিরুদ্ধে গণ-স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পবিত্র উপাসনালয়ের কার্পেট নিয়ে এমন জালিয়াতি কেবল ব্যবসায়িক প্রতারণা নয়, বরং এটি চরম ধর্মীয় অবমাননার শামিল।

Manual8 Ad Code

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “পণ্যের উৎস ও মান নিয়ে এ ধরনের প্রতারণা দণ্ডবিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক অপরাধ। অভিযোগের সত্যতা সাপেক্ষে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” ধর্মীয় লেবাস ও সরলতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গড়ে ওঠা এই বিশাল প্রতারণা চক্রের মূল হোতা জুয়েল আহমদের বিচার এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভুতি ও অর্থ—উভয়ই দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মুখে পড়বে।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code