পুলিশের আশীর্বাদে জমজমাট নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড | তদন্ত রিপোর্ট

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

পুলিশের আশীর্বাদে জমজমাট নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড

পুলিশের আশীর্বাদে জমজমাট নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: সিলেট মহানগরীর প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকা বর্তমানে অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে রমরমা জুয়ার আসর ও মাদকের অবৈধ কারবার। দিনের পর দিন এই অসামাজিক ও নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের একটি প্রভাবশালী অংশের সঙ্গে অপরাধী সিন্ডিকেটের গভীর সখ্য এবং নিয়মিত মাসোহারা প্রাপ্তির কারণেই এই অপরাধ সাম্রাজ্য আজ অজেয় হয়ে উঠেছে।

যে যেখানে সর্বেসর্বা: অনুসন্ধানে জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো এখন জুয়াড়িদের দখলে। বিশেষ করে কদমতলী বাস টার্মিনাল, হুমায়ুন রশীদ চত্বর, ক্বীন ব্রিজের তলদেশ, সাধুর বাজার বাঁশহাটা মার্কেট এবং কুমিল্লা পট্টি এলাকায় ‘জাণ্ডু-মুণ্ডু’, ‘তিন তাস’ ও সর্বনাশা ‘শিলং তীর’ জুয়ার জোয়ার বইছে। পুরাতন ও নতুন রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকাগুলো এখন কার্যত শিলং তীর জুয়ার ‘ওপেন জোনে’ রূপ নিয়েছে।

Manual3 Ad Code

টার্মিনাল এলাকা: কদমতলী পুলিশ ফাঁড়ির মাত্র ১০০ গজের মধ্যে বিআরটিসি কাউন্টারের পেছনে জুয়াড়ি নজরুলের দুই ভাই গড়ে তুলেছে এক বিশাল জুয়ার সাম্রাজ্য। স্থানীয়দের দাবি, এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫ লক্ষাধিক টাকার শিলং তীর ও জাণ্ডু-মুণ্ডু জুয়ার লেনদেন হয়।

বালুর মাঠ এলাকা: কুখ্যাত জুয়াড়ি বাচনের নেতৃত্বে এখানে চলে হরেক রকম অবৈধ কারবার। জুয়ার পাশাপাশি মাদকের রমরমা বাণিজ্যে ধ্বংস হচ্ছে ওই এলাকার যুবসমাজ। এখানে প্রতিদিন প্রায় ৩ লক্ষ টাকার জুয়া ও মাদক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

Manual1 Ad Code

ক্বীন ব্রিজের তলদেশ: সুরমা নদীর পাড়ে জুয়াড়ি জামালের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে চলছে বেপরোয়া জুয়ার আসর। ‘উপরের লাইন ঠিক আছে’ এমন দম্ভোক্তি করে জামাল বীরদর্পে তার সিন্ডিকেট চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কদমতলী ফাঁড়ির আইসির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদেই এই স্থানটি জুয়াড়িদের নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

Manual3 Ad Code

সাধুর বাজার বাঁশহাটা: এখানকার ‘মুকুটহীন সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত আবুল কাশেমের আস্তানা ‘সুরমামহল’ এখন অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে জুয়ার পাশাপাশি মদ, ইয়াবা ও অনৈতিক দেহব্যবসার পসরা বসে। প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকার প্রতারণামূলক জুয়া চলে এই আস্তানায়।

প্রশাসনের নির্লিপ্ততা ও বখরা বাণিজ্যে: প্রকাশ্যে এসব অপরাধ চললেও কদমতলী পুলিশ ফাঁড়ির নির্লিপ্ততা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি জুয়ার বোর্ড থেকে কদমতলী ফাঁড়ির নামে প্রতি সপ্তাহে ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা নিয়মিত ‘বখরা’ বা চাঁদা আদায় করা হয়। পুলিশ দেখেও দেখে না, কারণ এই অপরাধের শিকড় অনেক গভীরে। ফাঁড়ির আইসির বিশ্বস্ত এক সোর্সের মাধ্যমে এই অর্থ সংগৃহীত হয় বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক স্থানীয় বাসিন্দা।

Manual6 Ad Code

সামাজিক অবক্ষয় ও জনজীবনের নিরাপত্তা: জুয়ার এই বিশাল সিন্ডিকেটের কারণে দক্ষিণ সুরমায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকাসক্তি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিন তাসের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও নিম্নআয়ের শ্রমিকরা। বিশেষ করে ‘শিলং তীর’ নামক ডিজিটাল জুয়ার নেশায় আসক্ত হয়ে অনেক পরিবার পথে বসেছে।

সচেতন মহলের দাবি: দক্ষিণ সুরমাকে এই অপরাধের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে হলে কেবল মাঠ পর্যায়ের জুয়াড়িদের ধরলে হবে না, বরং এর নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী মদদদাতা এবং প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, এই ঐতিহাসিক জনপদটি অচিরেই অপরাধীদের স্থায়ী চারণভূমিতে পরিণত হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code