হরিপুরে পাখির মাংসের আড়ালে মাদক কারবার! | তদন্ত রিপোর্ট

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

হরিপুরে পাখির মাংসের আড়ালে মাদক কারবার!

হরিপুরে পাখির মাংসের আড়ালে মাদক কারবার!

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজারে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রেস্তোরাঁগুলোতে চলছে বন্য ও পরিযায়ী পাখির মাংসের অবাধ বাণিজ্য। আর এসব হোটেলের আড়ালে এলাকাটি এখন রূপ নিয়েছে মাদকের ভয়ংকর আখড়ায়। এতে চরম হুমকির মুখে পড়ছে স্থানীয় যুবসমাজ। প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘকাল ধরে চলা এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধে এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিপুর বাজারের উত্তর পাশে সওজ-এর জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা ‘তাড়ুহাটি’ নামক স্থানে বেশ কয়েকটি খাবারের হোটেল দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে তারু মিয়া রেস্টুরেন্ট, ভাই ভাই রেস্টুরেন্ট, জনপ্রিয় ড্রাইভার রেস্টুরেন্ট, নিউ ড্রাইভার রেস্টুরেন্ট ও পুরান ড্রাইভার হোটেল-সহ প্রায় ডজনখানেক হোটেল উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ ধরে এসব হোটেলে বন্য ও অতিথি পাখির মাংস বিক্রি হচ্ছে, যা খেতে প্রতিদিন সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন অসংখ্য মানুষ।

Manual4 Ad Code

অথচ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী বন্য ও পরিযায়ী পাখি শিকার, ক্রয়-বিক্রয় ও খাওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য ৬ মাসের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা জরিমানার সুস্পষ্ট বিধান থাকলেও, প্রশাসনের নীরবতায় এখানে তা সম্পূর্ণ উপেক্ষিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের গুরুতর অভিযোগ, পাখির মাংস বিক্রির এই অবৈধ ব্যবসার আড়ালেই হরিপুর বাজার এলাকাটি এখন মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বহিরাগতের আনাগোনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে অসামাজিক ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের বিশাল নেটওয়ার্ক। এর ফলে এলাকার যুবসমাজের একটি বড় অংশ দ্রুত মাদকের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

এ পরিস্থিতিতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন হরিপুর বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সচেতন নাগরিকবৃন্দ। তাদের দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে তাড়ুহাটি এলাকার স্থাপনাগুলো সরেজমিন তদন্ত করে সওজ-এর জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধতা এবং অনুমোদন কঠোরভাবে যাচাই করা এবং মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা।

Manual5 Ad Code

তবে স্থানীয়রা এ-ও স্পষ্ট করেছেন যে, এই আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো নির্দোষ বা বৈধ ব্যবসায়ী যেন অহেতুক হয়রানির শিকার না হন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code