এয়ারপোর্ট থানা ও ভূমি অফিসের পাশেই নির্বিচারে টিলা নিধন! | তদন্ত রিপোর্ট

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

এয়ারপোর্ট থানা ও ভূমি অফিসের পাশেই নির্বিচারে টিলা নিধন!

এয়ারপোর্ট থানা ও ভূমি অফিসের পাশেই নির্বিচারে টিলা নিধন!

Manual7 Ad Code

তদন্ত প্রতিবেদক: খাদিমনগরে থানা ও ভূমি অফিসের নাকের ডগায় নির্বিচারে টিলা নিধন: ‘ম্যানেজ’ প্রক্রিয়ায় নীরব প্রশাসন, নেপথ্যে কারা? সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নে আইন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে প্রকাশ্যে টিলা কাটার মহোৎসব। বিমানবন্দর (এয়ারপোর্ট) থানা এবং উত্তর কাছ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একেবারে নাকের ডগায় মংলিপার নেছারাবাদ হাউজিং ও কাকুয়ারপার এলাকায় দিনদুপুরে টিলা কেটে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন ও সমতল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের কার্যালয়ের অতি সন্নিকটে পরিবেশ বিধ্বংসী এই তাণ্ডব চললেও রহস্যজনক কারণে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে নয়, বরং এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ও উত্তর কাছ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই দুই স্থানে নির্বিঘ্নে এই অবৈধ কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, এয়ারপোর্ট থানাধীন মংলিপার নেছারাবাদ হাউজিংয়ের ভেতরে অবৈধভাবে টিলা কেটে সাবাড় করছেন অ্যাডভোকেট আব্দুল জলিল নামের এক ব্যক্তি। আইন পেশায় জড়িত হয়েও কীভাবে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ভিডিওচিত্রে তিনি দম্ভোক্তি করে দাবি করেন, স্থানটি ‘টিলা বাড়ি’ শ্রেণির ভূমি এবং তিনি আইন ভালো জানেন। তবে টিলা কাটার স্বপক্ষে প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো বৈধ অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।

অন্যদিকে, কাকুয়ারপার এলাকায় বিমানবন্দর থানা ও ভূমি অফিসের পাশেই প্রকাশ্যে টিলা শ্রেণির মাটি কেটে সমতল করার কাজ চালাচ্ছেন জাহান মোল্লা নামের অপর এক ব্যক্তি। সরেজমিনে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে জাহান মোল্লা কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বক্তব্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানান।

Manual8 Ad Code

এলাকাবাসীর দাবি, কাকুয়ারপার ও নেছারাবাদ হাউজিং এলাকায় চলমান এই টিলা নিধনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবগত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা অভিযান দৃশ্যমান হয়নি।

Manual4 Ad Code

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের ওসি শহিদুর রহমানের ব্যবহৃত সরকারি সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে প্রথমে ‘ব্যস্ততার’ অজুহাত দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে নিজে থেকে যোগাযোগ করার আশ্বাস দিলেও রহস্যজনকভাবে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Manual5 Ad Code

প্রশাসনের কার্যালয়ের এত কাছে দিনের পর দিন প্রকাশ্যে টিলা কাটার ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। সচেতন মহলের প্রশ্ন আইনের রক্ষক ও ভূমি প্রশাসনের চোখের সামনেই যদি এভাবে প্রাকৃতিক টিলা ধ্বংস করা হয়, তবে পরিবেশ রক্ষার দায় কার? অবিলম্বে সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে টিলা খেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনের এই নীরবতার নেপথ্যে থাকা দায়ীদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক ফাইজুল কবির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিবেশ আইন অমান্য করে টিলা শ্রেণির ভূমির সামান্যতম ক্ষতিসাধন বা শ্রেণি পরিবর্তন করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code