ফতেহপুরের ৮ নেতাকে শোকজ!
তদন্ত রিপোর্ট ডেস্ক: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রকাশ্য বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ও দলীয় পদের প্রভাব খাটিয়ে সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে চোরাচালানের পণ্যবাহী গাড়িতে চাঁদাবাজির যে সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছিল, অনুসন্ধানী জাতীয় সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’-এর ধারাবাহিক প্রতিবেদনে তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে সিলেট জেলা ছাত্রদল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে চাঁদাবাজির সুস্পষ্ট ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গোয়াইনঘাট উপজেলার ৬ নং ফতেহপুর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ ৮ নেতা-কর্মীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সিলেট জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুবের আহমদ জুবের ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার এই কঠোর সাংগঠনিক নির্দেশনা জারি করেন।
শোকজপ্রাপ্তরা হলেন- ফতেহপুর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন, সহ-সভাপতি বেলালে আহমদ, সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ হেলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী এবং ইউনিয়ন শাখার নেতা নাজমুল ইসলাম মান্না, শাহরিয়াদ আহমদ ও নাজমুল হাসান নাইম।
সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন রাহেল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায় কেন তাঁদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিতভাবে ব্যাখ্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ফেঁসে গেলেন নেতারা- এর আগে জাতীয় সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’-এর অনলাইন সংস্করণ, মাল্টিমিডিয়া ভিডিও প্রতিবেদন এবং সর্বশেষ প্রিন্ট সংস্করণের প্রথম পাতায় “ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতাদের নাইট ডিউটি কীসের সংকেত?” শিরোনামে সচিত্র অনুসন্ধান প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে সরেজমিন তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছানাকান্দি, পান্থুমাই, সোনারহাট ও তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে নিয়ে আসা চোরাই পণ্য, শাকসবজি এমনকি বিষাক্ত মাদকের গাড়ি আটকে ফতেহপুর বাজার এলাকায় রাতের আঁধারে বেপরোয়া চাঁদা আদায় করছিল এই সিন্ডিকেট। প্রতিটি চোরাচালানবাহী গাড়ি থেকে প্রকাশ্যে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়ার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
সংগঠনের সাইনবোর্ড ও পদ-পদবির আড়ালে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাতভর চলা এই চাঁদাবাজির প্রমাণ জনসমক্ষে আসার পরই জেলা ছাত্রদল কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়। সচেতন মহলের দাবি, কেবল লোকদেখানো কারণ দর্শানোর নোটিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের সদস্যদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।