মোঃ রায়হান হোসেন: বিগত ২৬ আগস্ট (২০২৬) লালপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে শীর্ষ চোরাকারবারি জয়নালের অবৈধ মালের চালান আটকের পর জামালগঞ্জ থানায় একটি মামলা রুজু হয় (মামলা নং: ২৭/০৮/২৬)। আর এই ঘটনার জেরেই বেরিয়ে এলো পুলিশ ও চোরাকারবারিদের মধ্যকার এক অন্ধকার আঁতাতের ভয়ংকর চিত্র। সম্প্রতি পুলিশ ফাঁড়ির এক সদস্যের সাথে জয়নালের একটি চাঞ্চল্যকর ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে, যেখানে আইনের রক্ষকদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চরম আস্ফালন প্রকাশ করেছে এই শীর্ষ চোরাকারবারি।
ফাঁস হওয়া ওই অডিও রেকর্ডে জয়নালকে অত্যন্ত দাম্ভিকতার সাথে পুলিশের সাথে তার ঘুষ লেনদেনের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব কষতে শোনা যায়। সে স্পষ্ট ভাষায় অপর প্রান্তে থাকা পুলিশ সদস্যকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে গত মাসে সে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে ১৫ হাজার, অবৈধ ‘লাইন ক্লিয়ারেন্সের’ জন্য ২০ হাজার এবং নগদ আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও অকপটে তুলে ধরে সে। এত বিপুল অঙ্কের মাসোহারা ও ঘুষ নেওয়ার পরও স্পিডবোট আটকে মালের চালান ধরায় পুলিশের বিরুদ্ধে একপ্রকার ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তোলে জয়নাল।
বিশেষ করে ফাঁড়ির আইসি সজল কুমার কানুর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও বিষোদ্গার প্রকাশ করে সে চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে হুমকি দেয় যে, সে ব্যবসা ছাড়লেও কারও কাছে মাথা নত করবে না। তার বিরুদ্ধে অভিযান চালালে পুলিশকে ভবিষ্যতে দেখে নেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকিও দেয় এই চোরাচালানকারী।
কথোপকথনে প্রসাধনী, মদ এবং গাঁজার মতো ভয়ংকর সব অবৈধ পণ্য পাচার এবং স্পিডবোট ম্যানেজ করার কথা নিজ মুখেই স্বীকার করে এই চোরাচালান সম্রাট। জয়নালের দাবি, টাকার জোরে সে যেকোনো ওয়ারেন্ট বা মামলা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
অন্যদিকে, অপর প্রান্তে থাকা ওই পুলিশ সদস্য জয়নালের এই আস্ফালনের সামনে রীতিমতো অসহায় ও আত্মরক্ষামূলক ভঙ্গিতে কথা বলতে শোনা যায়। নিজেকে বাঁচাতে তিনি জানান যে, তিনি এসপি, আলফা টু স্যার এবং এএসপি স্যারের সরাসরি নির্দেশে কাজ করছেন।
এই ফোনালাপ যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে চোরাকারবারি চক্র প্রশাসনকে ঘুষের জালে বন্দি করে নিজেদের অবৈধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রেখেছে। প্রকাশ্যে প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া জয়নালের এই আস্ফালন এখন জনমনে প্রশ্ন তুলেছে, আইনের রক্ষকরাই যদি অপরাধীদের টাকার কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে, তবে এই ভয়ংকর চোরাচালান চক্রের লাগাম টানবে কে? ফাঁড়ির আইসি থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম জড়িয়ে এই যে ঘুষের মহোৎসবের চিত্র উঠে এসেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখন সময়ের দাবি।
ধারাবাহিক সংবাদ নং- ১৩