সিলেট সংবাদদাতা: সিলেটে যেন কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর দৌরাত্ম্য। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে ইউরোপ-আমেরিকার রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে নিরীহ মানুষের রক্তঘাম করা অর্থ লুটে নিচ্ছে একশ্রেণির সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এবার পর্তুগালের ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ফাঁদ পেতে এক যুবকের কাছ থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে ‘রাজু’স কনসালট্যান্সি’ নামক একটি ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান।
দীর্ঘ দেড় বছর ধরে নিখোঁজ থাকা এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের প্রতারণায় ইউরোপের স্বপ্ন তো ধূলিসাৎ হয়েছেই, উল্টো নিঃস্ব হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে ভুক্তভোগী যুবকের।
জানা যায়, সিলেটের জিন্দাবাজারস্থ আল-হামরা শপিং সিটির ৭ম তলায় জমকালো অফিস সাজিয়ে বসেছিল ‘রাজু’স কনসালট্যান্সি’। অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, মাত্র ছয় মাসের মধ্যে পর্তুগালের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা হাতে তুলে দেওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে ভুক্তভোগী এক যুবকের সঙ্গে চুক্তি করে এই এজেন্সির কর্মকর্তা রাজু। প্রতারকের মিষ্টি কথায় ভুলে অগ্রিম বাবদ ১ লাখ টাকা তার হাতে তুলে দেন ওই যুবক।
কিন্তু চুক্তির নির্ধারিত ছয় মাস পার হয়ে গেলেও ভিসার কোনো নামগন্ধ ছিল না। উল্টো টালবাহানা করে পার করে দেওয়া হয় আরও প্রায় দেড় বছর। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী যুবক যখন টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন, তখনই নিজের আসল রূপ ধারণ করে প্রতারক রাজু।
বর্তমানে ওই প্রতারক নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে। শুধু তাই নয়, আল-হামরা শপিং সিটির সেই অফিসেরও পাঠ চুকিয়ে রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে সে।
দিনের আলোতে প্রকাশ্যে অফিস খুলে মানুষের জীবন ও অর্থ নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলার ঘটনায় সিলেটে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধ এসব ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রশাসনের নীরবতা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।
এদিকে, সর্বস্বান্ত হওয়া ভুক্তভোগীর পরিবার প্রতারক রাজুকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। ছবির এই ব্যক্তি (রাজু)-কে কোথাও দেখা গেলে বা তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কারো কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে অবিলম্বে ০১৮৪৫-৩৫৩০৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।
অবিলম্বে এই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি সিলেটে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply