কোম্পানীগঞ্জে এসিল্যান্ড-সার্ভেয়ারের ঘুষের সাম্রাজ্য! | তদন্ত রিপোর্ট

মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন

কোম্পানীগঞ্জে এসিল্যান্ড-সার্ভেয়ারের ঘুষের সাম্রাজ্য!

কোম্পানীগঞ্জে এসিল্যান্ড-সার্ভেয়ারের ঘুষের সাম্রাজ্য!

Manual6 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস এখন ঘুষ, দুর্নীতি ও চরম অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নামজারি (মিউটেশন) কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সেখানে গড়ে উঠেছে এক দুর্ভেদ্য সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড পলাশ তালুকদার এবং সার্ভেয়ার মো. আবু বকর সিদ্দিকের ছত্রছায়ায় আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত এক সাধারণ নিরাপত্তাকর্মী হয়ে উঠেছেন এই ঘুষ বাণিজ্যের প্রধান হাতিয়ার।

Manual1 Ad Code

জানা গেছে, এই তিন সদস্যের কথিত সিন্ডিকেটের ফ্রন্টলাইনে কাজ করেন সুকুমার নমঃ নামের ওই নিরাপত্তাকর্মী। নামজারি করতে আসা সাধারণ মানুষকে নানা কৌশলে সুকুমারের কাছে পাঠানো হয়। দায়িত্বের বাইরে গিয়ে সুকুমার সেবাগ্রহীতাদের ফাইলে নানা কাল্পনিক ত্রুটি ও জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সুকুমারের দাবিকৃত অন্যায্য শর্তে রাজি হলেই কেবল মেলে এসিল্যান্ড পলাশ তালুকদার ও সার্ভেয়ার আবু বকর সিদ্দিকের ‘গ্রিন সিগন্যাল’। আর যারা এই অনৈতিক দাবির কাছে মাথা নত করেন না, তাদের কপালে জোটে চরম হয়রানি। দিনের পর দিন ঘোরানো, ফাইলে ইচ্ছাকৃত ত্রুটি সৃষ্টি করা এবং নামজারি ঝুলিয়ে রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা সেখানে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একাধিক ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, একটি সাধারণ নামজারি ফাইলের জন্য সর্বনিম্ন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করছে এই চক্র। এসিল্যান্ড ও সার্ভেয়ার নিজেদের আড়ালে রেখে একজন আউটসোর্সিং কর্মীর কাঁধে ভর করে এই নীরব চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।

Manual1 Ad Code

এ পরিস্থিতিতে সচেতন মহলে একটি বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে একজন সামান্য আউটসোর্সিং নিরাপত্তাকর্মী কীভাবে ভূমি অফিসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের নথিপত্র ও কার্যক্রমে এত বড় প্রভাব বিস্তার করেন? কার ইশারায় এবং কাদের মদদে তিনি সেবাগ্রহীতাদের পকেট কাটছেন?

Manual4 Ad Code

ভুক্তভোগীরা জানান, এর আগেও একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এসব বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সর্ষের ভেতরেই ভূত থাকায় এবং দায়িত্বশীলরাই এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক হওয়ায় আজ পর্যন্ত কোনো সুফল মেলেনি।

কোম্পানীগঞ্জের আপামর জনসাধারণের এখন একটাই দাবি অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে হয়রানির হাত থেকে বাঁচাতে ভূমি অফিসে নামজারি সেবার সরকারি ফি, আবেদনের সঠিক প্রক্রিয়া এবং সেবা পাওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা প্রকাশ্য স্থানে টানিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার, সার্ভেয়ার মো. আবু বকর সিদ্দিক এবং নিরাপত্তাকর্মী সুকুমার নমঃ-এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউই ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের কোনো বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থন এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code
error: Content is protected !!