নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের গোয়াইনঘাটে জননিরাপত্তা ও প্রকৌশল বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি সেতু নির্মাণে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নলজুরী বাজার-আমস্বপ্ন রাস্তায় সেতু নির্মাণে প্রকল্পের প্রকৌশলী বালু নিম্নমানের হওয়ায় তা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও, ঠিকাদার সাহাবউদ্দিন ও স্থানীয় প্রভাবশালী ‘পাগলা মন্নান’-এর দাপটে সেই ‘রিজেক্ট’ বালু দিয়েই চলছে ঢালাইয়ের কাজ। “সরকার কা মাল, দরিয়া মে ঢাল”—এই প্রবাদকে সত্য প্রমাণ করে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার করলেও প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বালু অত্যন্ত নিম্নমানের এবং কাদা মিশ্রিত। দায়িত্বরত প্রকৌশলী উক্ত বালু ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করে তা সরিয়ে নেওয়ার (রিজেক্ট) নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি। উল্টো ঠিকাদার সাহাবউদ্দিন অধিক মুনাফার আশায় সেই ‘রিজেক্ট’ বালু দিয়েই ধুমধাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সন্ত্রাসী শেল্টার ও অবৈধ বালু উত্তোলন:
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিশাল অনিয়মের পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘পাগলা মন্নান’। মন্নান স্থানীয় ভাইরাল মাঠ সংলগ্ন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ঠিকাদার সাবউদ্দিনের কাছে সরবরাহ করছে। এলাকাবাসী এই কাজে বাধা দিলে পাগলা মন্নানের ভয়ভীতি ও দাপটের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে।
প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকা:
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই দুর্নীতির বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) বারবার অবহিত করা হলেও তিনি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, “ইউএনও সাহেবকে দফায় দফায় জানানোর পরও তিনি শুধু লিখিত অভিযোগের অজুহাত দিচ্ছেন। চোখের সামনে অনিয়ম জেনেও তার এই দায়সারা বক্তব্য অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়।”
ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার সাহাবউদ্দিন স্বীকার করেন যে, বালুগুলো কাজের অনুপযুক্ত এবং প্রকৌশলী তা পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বালু পরিবর্তন না করেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অন্যদিকে, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পরে জানিয়েছেন যে, তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
জনমনে ক্ষোভ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ:
কংক্রিটের ঢালাইয়ে মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহারের ফলে সেতুটির স্থায়িত্ব নিয়ে চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন আমস্বপ্ন গ্রামবাসী। দুর্নীতির এই মহোৎসব বন্ধে এবং ঠিকাদার ও তার মদতদাতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গোয়াইনঘাটের সচেতন নাগরিক সমাজ।
Leave a Reply