পুলিশ-বিজিবি‌‌"র সম্মুখে জাফলং খাবলে খাচ্ছে সবেদ | তদন্ত রিপোর্ট

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২২ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

পুলিশ-বিজিবি‌‌”র সম্মুখে জাফলং খাবলে খাচ্ছে সবেদ

পুলিশ-বিজিবি‌‌”র সম্মুখে জাফলং খাবলে খাচ্ছে সবেদ

প্রশাসনের নির্দেশ আমলে নিচ্ছেনা স্বৈরাচারের দোসর সবেদ ড্রাইভার
প্রশাসনের নির্দেশ আমলে নিচ্ছেনা স্বৈরাচারের দোসর সবেদ ড্রাইভার

Manual4 Ad Code

তদন্ত রিপোর্ট ডেস্ক: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে বালু-পাথর রক্ষায় এক রকম অসহায় প্রশাসনের সর্বচ্চ কর্তাব্যক্তিরা। সিলেট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার দুজনে এক রকম অসহায়ত্ব প্রকাশই করে বললেন, লাগাতার অভিযান, ১২টি মামলা করেও জাফলংয়ের অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছেনা। থানা পুলিশ গেলে কিছু সময় বন্ধ থাকে পাথর উত্তোলন, চলে আসলে আবার শুরু হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে. থানার পুলিশ-বিজিবি ও আনসার সদস্যদের সম্মুখেই চলছে ধানব যন্ত্র দিয়ে জাফলং ধ্বংশের উৎসব। কয়েক হাজার নৌকা দিয়ে শ্রমিকরা তুলছেন বালু-পাথর। কেউ লাগিয়েছেন শ্যালো মেশিন আবার কেউ লাগিয়েছে এক্সেভেটর বা ফেলুডার। কেউ বা আবার ফোর সিলিন্ডর মেশিন। ভয়ে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযান পরিচালনা করেনি। গত বৃহস্পতিবার এই চক্রের বিরুদ্ধে যাওয়ায় হামলার শিকার হয়েছেন গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের এক এ এসআই। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, গত ৫ /৬ মাস থেকে জাফলংয়ে স্বৈরাচারের দোসর ট্রাক শ্রমিক নেতা, ছাত্র-জনতার পৃথক তিনটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামী সবেদ উরফে সমেদ নিজেই গড়ে তুলেছেন একটি লুটতোরাজ বাহিনী। এই বাহিনী পর্যন্ত জাফলং এলাকার প্রতিটি নৌকা, শ্যালো মেশিন, পাথর-বালু বাহি গাড়ি, কোয়ারীর গর্ত থেকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা উত্তোলন করে থাকেন।

সবেদের রয়েছে পৃথক সিন্ডিকেট। রয়েছে নিজস্ব একটি লাইন সিন্ডিকেট। এরা জাফলং এলাকায় যে সকল পাথর কোয়ারী রয়েছে সেখান থেকে প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকার করে চাঁদা কানেকশন করেন। মাসুদ রানা ও আব্দুর রাজ্জাকের রয়েছে তিনটি বিশাল পাথর কোয়ারী। যা জাফলং মন্দিরের জুম এলাকায় গেলেই চোখে পড়বে। তাদের দাবী তারা এই কোয়ারীগুলো আওয়ামী লীগের সবেদ মিয়ার কাছ থেকে সাবলিজ নিয়ে। শেয়ারে তারা পাথর উত্তোলন করছেন সবেদের সাথে।

Manual4 Ad Code

নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, সবেদ, মাসুদ রানা যে জমি থেকে কোয়ারী করে পাথর তুলছেন উক্ত জমির প্রকৃত মালিক মৃত মন্তন মিয়াগং। মন্তন ও মঞ্জুর মিয়ার প্রচুর জমি রয়েছে জাফলং এলাকায়। কিন্তু মৃত মন্তনের পরিবারের সদস্যরা সামাজিক ও আর্থিক ভাবে দূর্বল হওয়ায় এই চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা ভয় দেখিয়ে তাদের জমি জবর দখল করে পাথর উত্তোলন করছেন।

জাফলং এলাকায় বিভিন্ন গ্রুপ হলেও দিন শেষে এখন ক্যাশিয়ার আমজাদ বক্স। তিনিই প্রশাসনের লাইন ম্যানেজ করেন। তার কথা মতোই চলতে হয় জাফলং এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের। তাদের উল্টো গেলেই বিপদে পড়তে হয় পুলিশকেও।

সম্প্রতি জাফলং জুমপার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- মৃত মন্তনের জমির উপর প্রায় ৬ টি বিশাল পাথর কোয়ারীর মাটি কাটা হয়েছে, দিনে চলছে লেবার দিয়ে পাথর উত্তোলন আর রাতে চালানো হচ্ছে এক্সেভেটার, ফেলুডার।

স্থানীয়রা আরো জানান- উক্ত জমির প্রকৃত মালিক মৃত মন্তন মিয়া কিন্তু সিলেট নগরীর বাসিন্ধা রায়নগর এলাকার বাসিন্ধা দেলোয়ার উরফে সোনা দেলোয়ার একটি জাল দলিল সৃজন করে নিজেকে ঐ জমির মালিক দাবী করেন। এ নিয়ে তার সাথে মৃত মন্তনের মিয়াগংদের একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ নিজের জমি রক্ষায় বাধ্য হয়ে ভুমির মালিক মন্তন মিয়ার ছেলে মতিউর রহমান মুহিব সিলেট সহকারি জজ আদালত গোয়াইনঘাট এ সম্প্রতি একটি মামলায় অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধের জন্য আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করলে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ইং জুমপার ২৬৩ নং দাগের ভুমির উপর সব রকম স্থিতি অবস্থা (ইংজাংশন) জারি করে ব্যবস্থা নিতে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের আদেশের আওয়ামী লীগের সবেদ ড্রাইভারের বাহিনী রাতের আধারে এক্সেভেটার ফেলুডার লাগিয়ে প্রায় প্রায় ১০ কোটি টাকার পাথর লুট করে নিয়ে গেছেন এ কয়েক দিনে।

ইতিমধ্যে তিনি থানার ওসি, জেলা প্রশাসক, সিলেট পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। তারা তাকে সহযোগীতার আশ্বাস দিলেও সবেদ ড্রাইভার প্রশাসনের কোন নির্দেশই আমলেই নিচ্ছেনা।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন জাফলং ধ্বংশের নায়ক সাবেক এমপি ইমরান আহমদের সাবেক লাইনম্যান চক্রের সদস্য সবেদ ছাত্র-জনতার তিনটি মামলার এজাহার ভূক্ত আসামী হওয়ার পর তাকে পুলিশ গ্রেফতার করছেনা। বরং জাফলং খাবলে খাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে কিসের বিনিময়ে। কিন্তু এখন জাফলং লুটপাটকারী সবেদ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কি কারণে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছেন জেলার নেতৃবৃন্দ এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। কাদের ছত্রছায়ায় থেকে আওয়ামী লীগের সবেদ জাফলং কোয়ারী খাবলে খাচ্ছে।

Manual4 Ad Code

স্থানীয়রা জানিয়েছেন- গত ৫ মাসে জাফলং কোয়ারি থেকে অন্তত ৫০০ কোটি টাকার বালু ও পাথর লুট করা হয়েছে। সারাদেশে ছাত্র-জনতার মামলায় আওয়ামী লীগ নেতারা কারাগারে কিংবা পালিয়ে বেড়ালে প্রকাশ্যে জাফলংয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিএনপির সাবেক সাংসদ দিলদার হোসেন সেলিমের নির্বাচনী স্টেজ ভাংচুরে মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী কুখ্যাত চাঁদাবাজ ট্রাক শ্রমিক নেতা ও আওয়ামী লীগের সবেদ মিয়া।

Manual6 Ad Code

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে- গত পাঁচ মাসে সেখানে ১৫-১৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার পরপর দুটি অভিযান চালানো হয়। থানায় মামলা হয়েছে ৮-৯টি।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে- জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে সরকার পতনের পর ১২০ কোটি টাকার পাথর লুটের ঘটনার মামলাটির চার্জসিট প্রক্রিয়াধিন। কিন্তু কিছুতেই যেনো থামানো যাচ্ছেনা জাফলং কোয়ারী লুটপাট। এ বাহিনীর সদস্যরা আধিপত্ব্য বিস্তার করতে এলাকায় প্রায়ই প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেয়। ফলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি সরকার তোফায়েল আহমদ গণমাধ্যমে জানান- অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে পুলিশি অভিযান চলছে। তিনি ছুটিতে ছিলেন তাই আদালতের আদেশটি বাস্তবায়ন করতে দেরি হয়েছে। তবে তিনি স্থানীয় পুলিশের বিট অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালতের আদেশটি বাস্তবায়নের জন্য।

তবে আওয়ামী লীগের সবেদ প্রকাশ্যে বলেন, স্থানীয় বিএনপির হয়ে কোয়ারীতে আছেন। তবে তিনি তার বিরুদ্ধে দায়ের করা কোন মামলায় জামিন নেননি আদালত থেকে। এসব মামলায় তার কিছু হবেনা বলেও দম্ভোক্তি করেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মোহাম্মদ মাহবুব মুরাদ গণমাধ্যমে জানান- গত ৫ আগস্টের পর প্রকৃতি-কন্যা জাফলংয়ের পাথর কোয়ারীতে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে শুনেছেন। ইতোমধ্যে পাথর লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্ব-স্ব থানায় মামলা হয়েছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা বলেন, পাথর ও বালুখেকোরা প্রকাশ্যে আদালত ও সরকারকে অমান্য করছে।

সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমে জানান- উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের টাস্কফোর্স ও মোবাইল কোর্টের অভিযানে থানা-পুলিশ সহায়তা করে। খবর পেলে পুলিশও অভিযান চালায়।

বিজিবি সিলেট সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সাইফুল ইসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমে জানান- সীমান্তের ১৫০ গজের ভেতর থেকে বালু-পাথর তুললে আমরা বাধা দিই। এর বাইরে অবৈধ ভাবে কেউ কাজ করলে সেটা উপজেলা প্রশাসন দেখে।

চলমান সংবাদ নং- ০১।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code