বিশ্বনাথে ল্যাট্রিন ও নলকূপ দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ | তদন্ত রিপোর্ট

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন

বিশ্বনাথে ল্যাট্রিন ও নলকূপ দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ

বিশ্বনাথে ল্যাট্রিন ও নলকূপ দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ

অভিযোগের তীর অফিস সহায়ক সিরাজের বিরুদ্ধে
অভিযোগের তীর অফিস সহায়ক সিরাজের বিরুদ্ধে

Manual1 Ad Code

মোঃ জামাল উদ্দিন, সিলেট: জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিতরণ করা ল্যাট্রিনসহ গভীর নলকূপ (ডিপ-টিউবওয়েল) পাইয়ে দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন অভিযোগ উঠেছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার চেয়ারম্যান কার্যালয়ের অফিস সহায়ক সিরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে।

বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ড দুর্লভপুর গ্রামের ভুক্তভোগী আশিক আলীর স্ত্রী সায়রা বেগমের অভিযোগ সুত্রে জানা যায়- সিরাজ মিয়া দুর্লভপুর গ্রামের মক্রম আলীর মেয়ে লাভলী বেগমের স্বামী এবং লামাকাজি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার আত্মীয়। সেই সুবাধে সিরাজ মিয়া বিশ্বনাথ উপজেলার অফিসার লামাকাজি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ৫/৬ শত ল্যাট্রিন সহ গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) করে দিয়েছেন।

Manual1 Ad Code

সিরাজ মিয়ার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সায়রা বেগম বলেন, ল্যাট্রিনসহ গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) পাইয়ে দেয়ার আশ্বস দেওয়ায় সিরাজ মিয়ার কথায় ল্যাট্রিন সহ গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) পাওয়ার জন্য কত টাকা দিতে হবে জানতে চাইলে সিরাজ মিয়া ল্যাট্রিন, নলকূপ এবং মিস্ত্রী খরচ সহ সর্বমোট ৬৫ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। পরবর্তীতে সায়রা বেগমের ভাই ও দুই ছেলে এবং সিরাজ মিয়ার প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে ৫৫ হাজার টাকা সিরাজ মিয়া নিয়েছেন বলে অভিযোগে সায়রা বেগম উল্লেখ করেন।

সায়রা বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্বনাথ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ সুহেল রানাকে দিয়ে একসদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়। কিন্তু সায়রা বেগমের অভিযোগের বিঃদ্রঃ কলামে দুর্লভপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তির টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হলেও অদৃশ্য কারণে তদন্ত কমিটি সায়রা বেগম এবং ওপর ব্যক্তিদের টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়নি।

প্রতিবেদক সরেজমিন দুর্লভপুর গ্রামে গেলে- মদরিছ আলীর ছেলে আব্দুল বারীর ৪০ হাজার টাকা এবং আব্দুর রহিমের ছেলে সাইদুর রহমান ৩৫ হাজার টাকা সিরাজ মিয়াকে দিয়েছেন বলে প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন। সাইদুর রহমান আরও বলেন, ল্যাট্রিন সহ গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) দিতে না পারায় সিরাজের কাছে টাকা ফেরত চাইলে সিরাজ তাকে ব্যাংকের চ্যাক প্রদান করেন। কিন্তু সিরাজের ব্যাংক একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তিনি এখনো সেই টাকা তুলতে পারেন নি।

Manual7 Ad Code

বিশ্বনাথ উপজেলার দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা কার্যালয়ের ২য় তলার সিরাজ মিয়ার বাসায় দেখা করে জানতে চাইলে তিনি জানান- সায়রা বেগম, মদরিছ আলী ও লাভলী নামে কাউকে তিনি চিনেন না ল্যাট্রিনসহ গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) দেওয়ার নামে তাদের কাছ থেকে টাকা নেননি। সাইদুর রহমানের কাছ থেকে টাকা ঋন নিয়েছিলেন এর জন্য চ্যাক প্রদান করেছেন। তবে বেতন পেলে টাকা দিয়ে দিবেন। কিন্তু লাভলীর মা খালা এবং ছোট ভাই শামিম সিরাজ মিয়াকে চিনেন দাবী করে বলেন- সিরাজের সাথে লাভলীর ভাই-বোনে সম্পর্ক রয়েছে। সিরাজ লাভলীকে বিবাহ করেছেন কি না তারা জানেন না।

Manual2 Ad Code

বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় এর কার্যালয়ে দেখা করলে তিনি জানান, সায়রা বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তদন্ত কমিটি যদি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়নি। সেক্ষেত্রে কিছু করার নেই। অন্যান্য ব্যক্তিরা লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন নি, তারা লিখিত অভিযোগ প্রদান করলে বিষয়টি দেখব।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo

Follow for More!

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code
error: Content is protected !!