মোঃ রায়হান হোসেন: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে লালপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) সজল কুমার কানুর বিরুদ্ধে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণ এবং পরবর্তীতে বিশ্বাসঘাতকতা করে মালামাল জব্দের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ঘুষের টাকা পকেটে পুরে উল্টো ‘বিশেষ অভিযানের’ ভুয়া বাহাদুরি প্রচার করছেন এই কর্মকর্তা, যা ফাঁস হয়েছে খোদ চোরাকারবারি জয়নালের একটি অডিও রেকর্ডে।
একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় সুরমা নদীর রামপুর এলাকায় লালপুর নৌ-পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩৯৮ পিস ভারতীয় শাড়ি এবং একটি স্পিডবোট জব্দ করা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, আইসি সজল কুমার কানুর দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশের তাড়া খেয়ে জয়নাল ও মোজাহিদ নামের দুই ব্যক্তি স্পিডবোট ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় তাদের আসামি করে একটি মামলাও রুজু করা হয়েছে বলে আইসি সজল কানু গণমাধ্যমকে জানান।
তবে পুলিশের এই ‘বীরত্বপূর্ণ’ অভিযানের দাবিকে পুরোপুরি মিথ্যা ও সাজানো বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মালামালের মালিক ও মূল অভিযুক্ত জয়নাল। ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডে ফাঁড়ির অন্য এক পুলিশ সদস্যের উদ্দেশে জয়নাল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এই সংবাদকে ‘ভুয়া নিউজ’ বলে আখ্যায়িত করেন।
তিনি রেকর্ডে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “মাল ধরছেন আপনে অভিযান দিয়া, আর লেখছে সজল কানু দাস বেডায় নাকি অভিযান দিয়া মাল আটক করছে”। জয়নাল আরও স্পষ্ট করেন যে, ফাঁড়ির ইনচার্জ সজল কানু নিজের কৃতিত্ব জাহির করতে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজেই গণমাধ্যমে এই বানোয়াট খবরগুলো ছাপাচ্ছেন।
মূলত, আইসি সজল কানু দীর্ঘ সময় ধরে জয়নালের কাছ থেকে অবৈধ ব্যবসার মদদ দিতে নিয়মিত মাসিক মাসোহারা নিতেন। কিন্তু অনৈতিক এই গোপন চুক্তি ভঙ্গ করে হঠাৎ মালামাল আটক করায় জয়নালের ব্যাপক ব্যবসায়িক ক্ষতি সাধিত হয়। নিয়মিত উৎকোচ নেওয়ার পরও এমন বেইমানি এবং পরবর্তীতে গণমাধ্যমে ভুয়া অভিযানের খবর প্রচার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন এই চোরাকারবারি।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ক্ষুব্ধ জয়নাল এখন ফাঁড়ির আরেক পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে আইসি সজল কানুকে সরাসরি বদলি করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। মাসোহারা আদায়কারী পুলিশ কর্মকর্তা এবং চোরাকারবারির এই অন্তর্দ্বন্দ্ব সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে চলমান দুর্নীতির নগ্ন চিত্রই জনসমক্ষে তুলে ধরেছে।
ধারাবাহিক পর্ব নং- ০৯।