মোঃ রায়হান হোসেন: সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও থামছে না মৎস্য সম্পদের জন্য হুমকিস্বরূপ ‘চায়না দুয়ারী’ জালের অবৈধ কারবার। এবার খোদ নৌপুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাসোয়ারার (ঘুষ) বিনিময়ে এসব নিষিদ্ধ জাল ব্যবসায়ীদের মদদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা হলেন লালপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি)।
সম্প্রতি গত আগষ্টের ধারণকৃত একটি ভিডিও চিত্র এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বস্তাবন্দি অবস্থায় পাচারের সময় বেশ কিছু নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ধরা পড়ে। ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, পাচারের উদ্দেশ্যে স্তূপ করে রাখা সাদা প্লাস্টিকের বস্তার এক কোণায় ছেঁড়া অংশ দিয়ে উঁকি দিচ্ছে সবুজ রঙের চায়না দুয়ারী জাল।
স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত অভিযোগ থেকে জানা যায়, অভিযান চালিয়ে পুলিশ ফোর্সের সদস্যরা এসব অবৈধ জালের বস্তাগুলোর সন্ধান পেলেও লালপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির আইসি তা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ জাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা (ঘুষ) গ্রহণ করেন তিনি। আর সেই অনৈতিক সুবিধার কারণেই তিনি ফোর্সকে আটককৃত মালপত্র ছেড়ে দিয়ে চলে আসার নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, বর্তমান আইসি লালপুর নৌপুলিশ ফাঁড়িতে যোগদানের পর ইতোমধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় পার হয়েছে। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, দীর্ঘ এই সময়ে তার আওতাধীন এলাকায় একটিও চায়না দুয়ারী জাল আটকের মামলা রেকর্ড হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, অবৈধ জাল ব্যবসায়ীদের সাথে তার নিয়মিত মাসোয়ারার চুক্তির কারণেই তিনি এসব নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না।
সরকার যেখানে দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় চায়না দুয়ারী জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে, সেখানে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার এমন ভূমিকা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত আইসির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
____ (চলমান পর্ব- ০৬)