তদন্ত প্রতিবেদক: আইনি দায়িত্ব পালনে আপসহীন অবস্থান নেওয়ায় সুনামগঞ্জের ছাতক থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান কতিপয় অসাধু ও কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর তীব্র রোষানল ও অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন।
“OC Chhatak Sunamganj” নামের ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া একটি পোস্টে এই বাস্তবতার কথা তুলে ধরা হয়েছে, যার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে “পেশাদারিত্ব বনাম স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচার”। কর্মক্ষেত্রে সততা, নিরপেক্ষতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে গিয়ে পুলিশকে পদে পদে প্রভাবশালী মহলের অন্যায্য চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অবৈধ সিএনজি, অটোরিকশা ও লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল আটকের পর অপরাধীদের ছাড়িয়ে নিতে প্রভাবশালীদের তরফ থেকে লাগাতার ‘তদবির’ আসে। পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে এসব বেআইনি আবদার প্রত্যাখ্যান করলেই দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে পরিণত করা হয় ব্যক্তিশত্রুতে। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করতে বানোয়াট ও অতিরঞ্জিত অভিযোগ নিয়ে আসা ব্যক্তিদের সঠিক আইনি পরামর্শ দিলেও তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এমনকি, কোনো মামলা বা পরোয়ানা ছাড়াই কেবল প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করার হীন উদ্দেশ্যে নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়। এসব বেআইনি নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালেই সমাজে “পুলিশ খারাপ” বা “পুলিশ কথা শোনে না” নামক ভিত্তিহীন কুৎসা রটানো হয়।
মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থানও এসব স্বার্থান্বেষী মহলের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। ইয়াবা ও চোরাচালান চক্রকে আটকের পর তাদের ছাড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হওয়া তদবিরবাজরাই পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে জঘন্য গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য ছড়াতে শুরু করে। প্রকৃতপক্ষে, যারা ফেসবুকে পুলিশের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বিষোদ্গার করছে, তাদের অনেকেই অতীতে মাদক কারবারি ও অপরাধীদের বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে আসা চিহ্নিত গোষ্ঠী।
ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, এসব হীন অপপ্রচার চালিয়ে পুলিশের মনোবল ভাঙা যাবে না এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনোভাবেই মাথা নত করবে না। সাময়িক অপপ্রচার ও ব্যক্তিশত্রুতা সত্ত্বেও পেশাদারিত্ব ও সততাই পুলিশের আসল পরিচয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অপরাধী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের স্বার্থে আঘাত লাগলেই যে তারা অপপ্রচারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, সে বিষয়ে সমাজের সচেতন নাগরিকদের সজাগ দৃষ্টি রাখার ও বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।