নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে চোরাচালান চক্রের সঙ্গে অশুভআঁতাত, উৎকোচ গ্রহণ এবং অবৈধ অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও নৈশকালীন ভিডিওচিত্রের বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, গভীর রাতে এয়ারপোর্ট রোড ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র মালবাহী ট্রাকের মাধ্যমে অবাধে বেআইনি পণ্য পরিবহন করে আসছে।
অভিযোগকারী ও স্থানীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন যাবৎ ওসি শহিদুর রহমানের প্রত্যক্ষ মদদে ও ছত্রচ্ছায়ায় এই অবৈধ কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে। নির্দিষ্ট অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে তিনি চোরাচালানকারীদের যাতায়াতের পথ সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক বা ‘লাইন ক্লিয়ার’ করে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, ওসির প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতে নিশীথ রাতে এয়ারপোর্ট রোডে পুলিশের কোনো ধরনের তল্লাশি বা নজরদারি থাকে না। সূত্রমতে, যে সকল ব্যবসায়ী বা গাড়িচালক উৎকোচ প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন, কেবল তাদের গাড়িই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটক করে হয়রানি করা হয়। অপরদিকে, যারা দাবিকৃত অর্থ বা মাসোহারা পরিশোধ করেন, তাদের জন্য সড়কটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চোরাকারবারিদের কাছ থেকে কয়েক দফায় সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের একটি বড় অংশ ওসি শহিদুর রহমান নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহি-নীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এহেন নীতিবহির্ভূত ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট এলাকায় চরম ক্ষোভ, অসন্তোষ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এসব বিষয় এ জানতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুর রহমানের ব্যবহৃত সরকারি সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে কোন সাড়া মিলেনি।
স্থানীয় জনসাধারণ ও ভুক্তভোগীরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনতিবিলম্বে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।