মোঃ রায়হান হোসেন: সিলেটের খাদিমনগর ইউনিয়নে অবৈধ বালু উত্তোলনের এক বিশাল ও বেপরোয়া সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায়, বরং তাদেরই প্রত্যক্ষ মদদে চলছে নদী ও ছড়া গিলে খাওয়ার এই মহোৎসব।
অভিযোগ উঠেছে, এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি বড় অংশ এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও কেনা-বেচার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রশাসনের চোখের সামনে এমন হরিলুট চললেও, মাসোহারার মোটা অঙ্কের ভাগ পকেটে যাওয়ায় সবাই যেন অন্ধ হয়ে আছেন।
বিশ্বস্ত ও দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, খাদিমনগরের বিভিন্ন ছড়া ও ঘাট থেকে উত্তোলিত অবৈধ বালুর এই ব্যবসা থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি চক্র। আদায়কৃত এই কালো টাকার একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমানের পকেটে।
এই ঘুষ বাণিজ্যে এবং সিন্ডিকেটকে শেল্টার দেওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি জড়িত হিসেবে যাঁদের তথ্য প্রমাণ সংরক্ষণ রয়েছে, তাঁরা হচ্ছে- কনস্টেবল সুহেল, এএসআই কামরুজ্জামান, এএসআই সারোয়ার, এএসআই এনামুল, এসআই বিধান, এসআই রহিম, এএসআই ইমন, কনস্টেবল আজিম এবং পুলিশ সদস্য কৃতিবিকাশ। মূলত তাঁদের পাহারায় ও ছত্রছায়াতেই চলছে পরিবেশ বিধ্বংসী এই অবৈধ রাজত্ব।
পুলিশের পাশাপাশি এই সিন্ডিকেটে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা একটি বিশাল চক্র। যারা সরাসরি এই ঘাটগুলো নিয়ন্ত্রণ এবং বালু কেনা-বেচার সাথে জড়িত, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন- বাচ্চু মিয়া (পিতা: আঞ্জব আলী), আনু, তানভির, শফিক (পিতা: আব্দুস শুকুর), মকতার আলী (পিতা: নেসার আলী), মাহমুদুল হাসান, আশরাফুজ্জামান আশরাফ, মাসুম, শাহ জাহান, ফরহাদ এবং মাসুক মিয়া।
খাদিমনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রভাব খাটিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ এসব বালুর ঘাট। ওয়ার্ডভিত্তিক এসব ঘাটের তালিকা ও নিয়ন্ত্রকদের যে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে, তারমধ্যে ৬নং ওয়ার্ডের চুইস গেইট-সংলগ্ন লুসাইন, বদনা ছড়া (বশির মেম্বারের বাড়ির সামনে), কালাগুল মাদ্রাসা ঘাট (ফারুক আহমদ ওরফে সার মেম্বারের নিয়ন্ত্রণে) এবং রামগুয়া পাইকপাড়া ঘাট (আওয়ামী লীগ নেতা ফাত্তা মিয়ার নিয়ন্ত্রণে) ও ৭নং ওয়ার্ডের সাহেব বাজার এবং বাগানী ছড়ার মুখ এলাকা এবং ৮নং ওয়ার্ডের উগুল এলাকায় ‘ডেভিল’ মাসুকের ঘাট, এওরার টোক এলাকায় আব্দুর রহমানের ঘাট এবং বারোঘর এলাকায় মনুরঞ্জনের ঘাট।
পরিবেশ ধ্বংসকারী এই অসাধু সিন্ডিকেটের কাছে আজ জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রক্ষক নামের পুলিশ এবং প্রভাবশালী বালু খেকোদের এই চক্র এতটাই বেপরোয়া যে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। রাষ্ট্রের পোশাক গায়ে জড়িয়ে যারা অপরাধীদের সুরক্ষা দিচ্ছে এবং পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসবে মেতে উঠেছে, তাদের এবং এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
ধারাবাহিক সংবাদ নং-০২