নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সিলেটের জৈন্তাপুর থানা পুলিশ। সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে থানা পুলিশের ধারাবাহিক ও সাঁড়াশি অভিযানে লণ্ডভণ্ড হয়েছে চোরাকারবারিদের শক্ত ঘাঁটি।
জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লার সার্বিক দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এসব অভিযানে শুধু এক মাসেই জব্দ করা হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকার অবৈধ পণ্য। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।
পুলিশি অভিযানের সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে গত ৩০ সেপ্টেম্বর। এদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নয়াখেল এলাকায় সারী নদীর উত্তর পাড়ে একটি অভিনব চোরাচালান নস্যাৎ করে পুলিশ। ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-৬৫৯১ নম্বরের একটি বালুবাহী ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৫০ ঘনফুট বালুর নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪ হাজার ৩৪১ পিস বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভারতীয় শাড়ি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এ সময় শাড়ি, ১ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের বালু এবং ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ট্রাকটি জব্দের পাশাপাশি হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় ট্রাকচালককে। আসামিকে কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে প্রেরণ করে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
মাদকের বিষদাঁত ভাঙতেও পুলিশের অভিযান ছিল অত্যন্ত কঠোর। সেপ্টেম্বর মাসে থানা পুলিশ ৫টি মাদক মামলায় ৬ জন কারবারিকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ২ হাজার ২৪৭ পিস ইয়াবা। এছাড়া জিডি মূলে উদ্ধার করা হয় ১০ বোতল ভারতীয় মদ (মূল্য ১০ হাজার টাকা)। সব মিলিয়ে থানা পুলিশের অভিযানে মোট ৮ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকার মাদক উদ্ধার হয়। এর পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ৩টি পৃথক অভিযানে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের ১৫০ পিস ইয়াবা, ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ১ কেজি গাঁজা ও ১ লাখ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ২৭ বোতল বিদেশি মদ।
অন্যদিকে, সীমান্তপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও শুল্ক ফাঁকি রোধে ৪টি চোরাচালান মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এসব অভিযানে জব্দ করা হয় ৩ লাখ টাকা মূল্যের ১৫০টি মাঝারি সাইজের কম্বল, ১৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৫৫ প্যাকেট ওরিও বিস্কুট, ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ভারতীয় ইয়ামাহা মোটরসাইকেল এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৩টি ষাঁড় বাছুর।
কেবল চোরাই পণ্য বা মাদকই নয়, জননিরাপত্তা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে জিডি মূলে একটি সচল এসএলআর (সেলফ লোডিং রাইফেল) এবং একটি মরিচা ধরা পুরাতন পিন লিভারও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
অপরাধ নির্মূলে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও সাঁড়াশি অভিযান জনমনে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়েছে। অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে এবং সীমান্ত এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের এমন কঠোর অবস্থান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।