'তদন্ত রিপোর্টে'র তোপে কোম্পানীগঞ্জের ওসি প্রত্যাহার! | তদন্ত রিপোর্ট

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

‘তদন্ত রিপোর্টে’র তোপে কোম্পানীগঞ্জের ওসি প্রত্যাহার!

‘তদন্ত রিপোর্টে’র তোপে কোম্পানীগঞ্জের ওসি প্রত্যাহার!

Manual4 Ad Code

তদন্ত রিপোর্ট ডেস্ক: জাতীয় সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’ পত্রিকার একটি সংবাদ প্রকাশের পর পরই টনক নড়েছে সিলেট জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) সকাল ৮ ঘটিকায় পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে “চাঁদাবাজির সাম্রাজ্যে কোম্পানীগঞ্জের ওসি!” শীর্ষক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে অন্তর্জালে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে। ফলশ্রুতিতে, প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে আসার মাত্র ২/৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ত্বরান্বিত পদক্ষেপে সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগের যৌক্তিকতা প্রদর্শনপূর্বক কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম খানকে স্বীয় দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অবিলম্বে এই প্রত্যাহারের আদেশ কার্যকর হবে। তবে অত্র থানায় অদ্যাবধি নতুন কাউকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়নি।

Manual7 Ad Code

‘তদন্ত রিপোর্ট’-এ প্রকাশিত সংবাদটি ওসির অপকর্মের যে ফিরিস্তি উন্মোচন করেছে, তা রীতিমতো রোমহর্ষক। রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ, তখন চাঁদাবাজির চরমতম নির্লজ্জতার চাক্ষুষ সাক্ষী হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। ছদ্মবেশে বা সাধারণ পরিচ্ছদে পরিভ্রমণরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) পুলিশের ভ্রান্তিতে প্রকাশ্য দিবালোকে উৎকোচ সাধার দুঃসাহস প্রদর্শন করেছে এক ট্রাকচালক! এই স্পর্ধার মধ্য দিয়েই উন্মোচিত হয়েছে ওসি শফিকুল ইসলাম খানের নেতৃত্বাধীন পুলিশের এক সুবিশাল দুর্নীতির সাম্রাজ্য। উপজেলা পরিষদ তোরণের সম্মুখে ভোলাগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের পুলিশ চেকপোস্টটি যেন ওসির এক ‘অঘোষিত টোল প্লাজায়’ রূপান্তরিত হয়েছিল। অবৈধ বালু ও পাথরবাহী ট্রাকগুলো থেকে নির্লজ্জভাবে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হতো, যার যাবতীয় হিসাবরক্ষণ হতো খোদ চেকপোস্টেই।

পুলিশের নৈরাজ্য ও দুর্নীতির উপাখ্যান এখানেই সমাপ্ত নয়। ওসির আশীর্বাদপুষ্ট উপপরিদর্শক (এসআই) নুর মিয়ার মধ্যস্থতায় সীমান্ত চোরাচালান, অবৈধ ট্রাক্টর, লিস্টার মেশিন ও নৌযান থেকে ১ হাজার থেকে শুরু করে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মাসিক চাঁদা বা মাসোহারা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। আর্থিক প্রলোভনে জব্দকৃত উৎকৃষ্ট মানের মোটরসাইকেল মাদক কারবারিদের হস্তগত করে ভগ্নপ্রায় যানকে আলামত হিসেবে উপস্থাপন, প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়ে তার ৭০ বর্ষীয়া বৃদ্ধা মাতাকে কারাবন্দি করা এবং চার মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে চোরাচালানের ‘লাইনম্যান’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মতো ভয়ংকর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে খোদ ওসি শফিকুলের বিরুদ্ধে। এমনকি, কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য আটকের মামলাতেও মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে প্রকৃত চোরাকারবারিদের অব্যাহতি দেওয়ার মতো চরম রফাদফায় লিপ্ত ছিল এই চক্রটি। যদিও অভিযুক্ত এসআই নুর মিয়া বরাবরের মতোই এসব গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস পেয়েছেন। অন্যদিকে, সিসি ক্যামেরার অজুহাত প্রদর্শনপূর্বক স্বীয় স্কন্ধ থেকে দায়ভার স্খলনের অপচেষ্টা করেছিলেন ওসি শফিকুল।

Manual8 Ad Code

অভিযোগের বিষয়ে ওসি সফিকুল ইসলাম খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি নিরুত্তর ছিলেন বিধায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সিলেটের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, “সফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ গোচরীভূত হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হবে এবং কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তগত হওয়ার পর তদানুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের স্বার্থেই তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।”

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code