তদন্ত প্রতিবেদক: প্রশাসনিক জটিলতার খোঁড়া অজুহাতে মাত্র ২ কোটি টাকার সংস্কারকাজ আটকে রেখে সিলেটবাসীকে চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বর্তমান কঙ্কালসার দশা ও সওজের এমন চরম গাফিলতিতে এবার সরাসরি ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
জনদুর্ভোগ নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা বরদাশত না করে সওজের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে কড়া ভাষায় জবাবদিহির আওতায় এনেছেন তিনি।
সম্প্রতি সওজের ওই শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনালাপে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মহাসড়কের এই বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, চার লেন প্রকল্পের মূল কাজের দোহাই দিয়ে বর্তমান সচল সড়কটিকে মরণফাঁদে পরিণত করার কোনো সুযোগ নেই। সড়ক চলাচলের উপযোগী রাখার সম্পূর্ণ দায় সওজের। প্রতিদিন সাধারণ মানুষ এই ভাঙাচোরা সড়কে দুর্ঘটনার চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মহাসড়কটির জরুরি সংস্কারের জন্য সওজ ৭৫ কোটি টাকা দাবি করেছিল। এর মধ্যে প্রাথমিক কাজের জন্য ২ কোটি টাকা অনুমোদনও দেওয়া হয়। কিন্তু ‘ই-জিপি’ ও অন্যান্য দাপ্তরিক জটিলতার হাস্যকর অজুহাত দেখিয়ে সেই কাজ ঝুলিয়ে রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সওজের এমন দায়িত্বহীনতায় মন্ত্রী চরম উষ্মা প্রকাশ করে কড়া নির্দেশ দেন, ই-জিপি বা কোনো ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার দোহাই দিয়ে সংস্কারকাজ আর এক মুহূর্তও বিলম্বিত করা যাবে না। অনুমোদিত অর্থের বিপরীতে দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করে অবিলম্বে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতে হবে।
কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রী রীতিমতো আল্টিমেটাম দিয়েছেন। ৭৫ কোটি টাকার চাহিদাপত্র এবং অনুমোদিত ২ কোটি টাকার যাবতীয় কাগজপত্র আগামী ২৭ অথবা ২৮ তারিখের মধ্যে জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের দুরবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী, পরিবহন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ কমাতে সওজের টেবিলে আটকে থাকা ফাইলের জট ছাড়িয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার এই চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।