তদন্ত ডেস্ক: ষষ্ঠ শ্রেণির এক নিরীহ স্কুলছাত্রীকে উপবৃত্তির ফাঁদে ফেলে শ্লীলতাহানি ও নগ্ন ভিডিও ধারণের মতো পৈশাচিক অপরাধ করেও পার পায়নি মূল হোতা শিহাব আহমদ (২২)। অপরাধীর সমস্ত পালানোর ছক নস্যাৎ করে দিয়ে এক সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে তাকে আইনের জালে বন্দি করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৯ (এসআরবি-৯)।
এসআরবি-৯ এর সদর দপ্তর থেকে ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফল অভিযানের কথা নিশ্চিত করা হয়। ঘটনার পর থেকেই এসআরবি-৯ এর চৌকস দল কঠোর ছায়া তদন্ত ও নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। অপরাধী যতই ধূর্ত হোক না কেন, এসআরবি-৯ এর রাডার থেকে সে রক্ষা পায়নি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৩ অক্টোবর রাত ৮টা ৫ মিনিটে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন ওলিপুর রেলগেট এলাকায় এসআরবি-৯, সিপিএসসি সিলেট এবং সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জের যৌথ আভিযানিক দল এক আকস্মিক ও দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে। এই বজ্রকঠিন অভিযানেই ধরা পড়ে গোয়াইনঘাটের বারহাল গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে লম্পট শিহাব।
জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে গোয়াইনঘাটের আলীরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে উপবৃত্তির ছবির কথা বলে ইলিয়াছ মার্কেটের রাজ স্টুডিওতে নিয়ে যায় শিহাব। সেখানে জোরপূর্বক সিঁড়ির আড়ালে নিয়ে কাপড় ছিঁড়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর ওই ভিডিও ছাত্রীর বাবা ও ভাইকে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে অপরাধীরা এবং মামলার ২নং আসামি আল আমিন তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। নিরুপায় পরিবার গত ১০ অক্টোবর পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করে (মামলা নং-১০)।
মামলা দায়েরের পরই এসআরবি-৯ মাঠে নামে এবং প্রযুক্তি ও নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে মূল আসামিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়। এসআরবি-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং এমন বিকৃত মস্তিষ্কের অপরাধীদের সমূলে উৎপাটন করতে এসআরবি-৯ এর এমন কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।