মোঃ রায়হান হোসেন: সিলেট সদর উপজেলার ১নং জালালাবাদ ইউনিয়নে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও থামেনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের আস্ফালন। পতিত সরকারের দোসর ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম ভোল পাল্টে রীতিমতো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বিএনপির একটি সুবিধাবাদী অংশের ছত্রছায়ায় তিনি শুধু নিজের পিঠই বাঁচাচ্ছেন না, বরং আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের জড়ো করে রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতা ও সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন।
জানা যায়, পশ্চিম কালারুকা ইসলামগঞ্জ এলাকার জমির আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম ১ নম্বর জালালাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। বিগত সরকারের আমলে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশফাক আহমদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তিনি। বিগত নির্বাচনগুলোতে নৌকার একনিষ্ঠ এজেন্ট হিসেবে কাজ করা এই নেতার বিরুদ্ধে ক্ষমতার দম্ভে বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তবে তার সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের চিত্র ফুটে ওঠে ২৪-এর জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে।
স্থানীয়দের সুস্পষ্ট অভিযোগ, আন্দোলন চলাকালে সিলেট নগরের তেমুখী, মদিনা মার্কেট ও বন্দর বাজার এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত বর্বরোচিত হামলায় সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই সিরাজুল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অবৈধ পণ্য ও স্বর্ণ চোরাচালান এবং আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার মতো মারাত্মক অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী। ক্ষমতার অপব্যবহার করে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। এমনকি একটি মাদ্রাসা ভাঙচুরের নেপথ্যেও তার নগ্ন হস্তক্ষেপ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক ব্যাপার হলো, বিগত দিনে যে বিএনপির নেতাকর্মীদের তিনি চরম নির্যাতন করেছেন, আজ তাদেরই একটি অংশের মদদে তিনি পুনর্বাসিত হচ্ছেন। সিরাজুল নিজেই সদর্পে প্রচার করছেন যে, জেলা বিএনপির এক শীর্ষ উপদেষ্টার সঙ্গে তার নিবিড় সখ্য রয়েছে। এই রহস্যময় রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুযোগ নিয়ে সিরাজুল অত্যন্ত সুকৌশলে এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের জড়ো করছেন। চলছে গোপন বৈঠক ও এলাকায় আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার গভীর ষড়যন্ত্র। সিরাজুলের দাপটে ভীতসন্ত্রস্ত স্থানীয়রা প্রকাশ্যে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না।
এদিকে, সব অভিযোগ ধামাচাপা দিতে সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় সিরাজুল নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেন। তার দাবি, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় তিনি দেশেই ছিলেন না, মালয়েশিয়ায় ছিলেন। বর্তমানে তিনি রাজনীতির বাইরে থেকে ট্রাভেল এজেন্সি ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঠেকাতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল ৫ বছর আগের ছবি দিয়ে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু মালয়েশিয়ায় থাকার সপক্ষে কোনো পাসপোর্ট, ভিসা বা দালিলিক প্রমাণ দেখাতে তিনি চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, এটি স্রেফ অপরাধ আড়াল করার এক নির্লজ্জ অপচেষ্টা।সিরাজুলের মতো একজন চিহ্নিত অপরাধী ও জুলাই অভ্যুত্থানে হামলাকারীর এই বেপরোয়া উত্থান ছাত্র-জনতার রক্তের সঙ্গে চরম বেইমানি। রাজনৈতিক পরিচয় পাল্টে বা নতুন বলয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অতীতের ঘোরতর অপরাধ থেকে দায়মুক্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে সিরাজুলের চোরাচালান, মানবপাচার, মাদ্রাসা হামলা এবং জুলাই গণজাগরণে হামলার অভিযোগগুলোর কঠোর ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
একইসঙ্গে, যে সুবিধাবাদী রাজনৈতিক চক্র একজন ঘাতককে আশ্রয় দিয়ে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে, তাদেরকেও দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে।